নিজস্ব প্রতিনিধি :
নিষেধাজ্ঞার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আবারো রাজপথে নিজেদের অস্তিত্ব ও সাহসিকতার জানান দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এক বিশাল মিছিল বের করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সরকারি কঠোর বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে রাজপথে ছাত্রলীগের এই পদচারণা সাধারণ কর্মীদের মাঝে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে।
মিছিলটি সংসদ ভবনের প্রধান ফটকের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নেতাকর্মীদের কণ্ঠে ছিল অধিকার আদায়ের দৃপ্ত স্লোগান। ৫ই আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হলেও, সংগঠনটির দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা মনে করেন—ছাত্রলীগ একটি আদর্শের নাম, যা কেবল আইনি আদেশে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। আজকের এই মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, “ছাত্রলীগ ইতিহাসের সৃষ্টি, ইতিহাসের নির্মাতা। দেশের সংকটকালে আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। সাধারণ ছাত্রসমাজের স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি এবং থাকব।”
দীর্ঘদিন ধরে চাপের মুখে থাকা সত্ত্বেও ছাত্রলীগের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে টিকাদান কর্মসূচি থেকে শুরু করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে ছাত্রলীগের যে সক্রিয় ভূমিকা ছিল, কর্মীরা সেই ঐতিহ্যকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার শপথ নিয়েছেন। মিছিল থেকে তারা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং সংগঠনের ওপর থেকে অন্যায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিকূল পরিবেশে সংসদ ভবনের মতো সংবেদনশীল এলাকায় ছাত্রলীগের এই জমায়েত সংগঠনটির হারানো মনোবল ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুলিশের বাধা এবং গ্রেফতারের ঝুঁকি থাকলেও নেতাকর্মীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে মিছিলটি সম্পন্ন করেন এবং নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেন। উপস্থিত কর্মীদের অনেকের হাতেই ছিল জাতীয় পতাকা এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ব্যানার।
আজকের এই মিছিলে ছাত্রলীগের অকুতোভয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, দমন-পীড়নের মাধ্যমে একটি গণসংগঠনের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করা যায় না। প্রতিকূলতা যত বাড়ছে, ছাত্রলীগের কর্মীরা ততটাই ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হয়ে রাজপথে ফিরছেন বলে দাবি করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা
