নিজস্ব প্রতিনিধি :
বগুড়ার শেরপুর থানায় এক নারী উপ-পরিদর্শককে (এসআই) ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করায় নূর মোহাম্মদ মামুন নামে এক যুবককে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ডিউটি অফিসারের কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে ওই যুবককে মুক্তি দেওয়া হলেও পুলিশি আচরণের এমন অপেশাদারত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মামুন খন্দকারটোলা গ্রামের একজন পিকআপচালক। তিনি তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে ডিউটিরত এসআই রোখসানা খাতুনকে সালাম দিয়ে ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করতেই তিনি প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কোনো আইনি কারণ ছাড়াই মামুনকে আটক করে থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেক্স কক্ষে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে মামুনের স্বজন ও এলাকাবাসীরা থানায় ভিড় করলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয় এবং দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা পর তাঁকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসআই রোখসানা খাতুন গত ১৯ এপ্রিল এই থানায় যোগদানের পর থেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। এর আগেও রেজাউল করিম, হাসান ও ইমরান হোসেনের মতো একাধিক ভুক্তভোগী তাঁর বিরুদ্ধে ওসির কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, রোখসানা খাতুন প্রায়ই থানায় সেবা নিতে আসা মানুষদের ধমক দিয়ে বের করে দেন এবং সাধারণ সম্বোধনকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করেন।
থানার ভেতরকার চিত্রও স্বস্তিদায়ক নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসআই রোখসানার মেজাজ ও খামখেয়ালি আচরণের কারণে সহকর্মীরাও তটস্থ থাকেন। তিনি যেদিন ডিউটিতে থাকেন, সেদিন এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, ইতিপূর্বেও ওই নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। ‘ম্যাডাম’ ডাকায় যুবককে আটকে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এসআই রোখসানা খাতুনের মোবাইল বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী মামুনসহ এলাকাবাসী অবিলম্বে ওই কর্মকর্তার বদলি ও বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
