নিজস্ব প্রতিনিধি :
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, একনায়কতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার প্রচারণাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
সিনথিয়া জাহিন জানান, তিনি সরাসরি ভোটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মুখপাত্র নির্বাচিত হলেও বর্তমানে তাঁকে এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতাদের সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে পরিকল্পিতভাবে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি সংগঠনের কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর প্রশাসনিক এক্সেস (Access) থেকেও তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, সংগঠনের অধিকাংশ সিদ্ধান্তই রিফাত রশীদ এককভাবে গ্রহণ করছেন, যা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল চেতনার পরিপন্থী।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে সিনথিয়া দাবি করেন, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশব্যাপী ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণার নামে বিপুল অংকের অর্থের অস্বচ্ছ লেনদেন ও লুটপাট হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও যখনই তিনি এসব আর্থিক বিষয়ের হিসাব ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তখনই তাঁকে জবাবদিহি না দিয়ে উল্টো ‘সংগঠন ভাঙার’ অপবাদ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অভিযোগগুলো কেবল একটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নয়, বরং এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন জড়িত। বিশেষ করে, গণভোটের মতো একটি প্রক্রিয়ায় যেখানে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত মতামতের প্রতিফলন ঘটার কথা, সেখানে যদি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল ব্যবহার করা হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক রীতির চরম লঙ্ঘন।
টাকা খরচ করে একতরফা প্রচারণা চালানোর ফলে পুরো গণভোট প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা এবং গ্রহণযোগ্যতা এখন বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, যে আন্দোলনের শুরু হয়েছিল বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার নিয়ে, তার ভেতরেই এখন কেন জবাবদিহিতার এমন সংকট তৈরি হলো। সিনথিয়া জাহিনের এই বিস্ফোরক বক্তব্যের পর আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্ব ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান কী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
