নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাবে সরকার বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়ালেও রাজধানীতে অল্প দূরত্বে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে নতুন ভাড়া কাঠামোর চেয়েও বেশি চাপ পড়ছে নগরবাসীর ওপর।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বৈঠকে বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং দূরপাল্লায় ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ২ টাকা ২৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ভাড়া অপরিবর্তিত রেখে ১০ টাকা রাখা হয়েছে।
এর আগে শনিবার রাতে সরকার জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করে। নতুন দামে ডিজেল লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা রোববার থেকে কার্যকর হয়।
সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকরের পরও অনেক বাসে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বিশেষ করে অল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেই তুলনামূলক বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।
মিরপুর থেকে কারওয়ান বাজারগামী এক যাত্রী বলেন, আগে যেখানে ২০ টাকা ভাড়া ছিল, এখন সেখানে ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে ৪০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গাবতলী-যাত্রাবাড়ী রুটের যাত্রী মাহবুব আলম বলেন, “সরকার যে হারে ভাড়া বাড়িয়েছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে। অল্প দূরত্বে ১০-১৫ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে।”
সাভার-নতুন বাজার রুটে ৬০ টাকার ভাড়া ৭৫ টাকা নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাস্তব খরচের সঙ্গে সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার সামঞ্জস্য থাকছে না।
সাভার পরিবহনের এক চালক জানান, “তেলের দাম বাড়ার পর আগের ভাড়ায় গাড়ি চালানো সম্ভব না। আয় না বাড়লে লোকসান গুনতে হবে।”
এয়ারপোর্ট পরিবহনের চালক সোহরাব মিয়া বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হওয়ায় ট্রিপ কমে যাচ্ছে, এতে আয়ও কমছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা আইনসিদ্ধ নয়।
যাত্রীদের অভিযোগ, কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া সামান্য বাড়লেও অল্প দূরত্বে তা অনেক বেশি হিসেবে আদায় করা হচ্ছে, যা কার্যত অনিয়ন্ত্রিত ভাড়া বৃদ্ধির শামিল।
এ অবস্থায় ভাড়া কার্যকরে তদারকি জোরদার এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাত্রীরা।
