জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলা এলাকায় অবস্থিত ‘হাবিবের দোকান’ যা ক্যাম্পাসে ‘বামের দোকান’ নামে পরিচিত সেখানে খাবার নিয়ে জাকসুর এক নেতার সঙ্গে দোকানির বিরোধের জেরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে বটতলার সব দোকানদার একযোগে দোকান বন্ধ করে দেন।
দোকানদার শাহাবুদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টার দিকে জাকসুর দুই নেতা তাঁর দোকানে খাবার খেতে আসেন। তাঁরা পরোটা ও হালিম অর্ডার করেন। খাবার পরিবেশনের পর হালিমে মাছি পাওয়া গেছে এমন অভিযোগ তুলে তাঁরা দোকানের কর্মচারীদের ডাকাডাকি শুরু করেন। একপর্যায়ে একজন কর্মচারীকে সেটি ‘খেয়ে দেখতে’ বলেও চাপ প্রয়োগ করা হয়।
শাহাবুদ্দিন আরও দাবি করেন, জাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হুসনে মোবারক এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর শরীরের ওপর হালিমের বাটি ছুঁড়ে মারেন এবং অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। তিনি বলেন, “তাঁরা পরোটার দাম দিয়ে গেলেও হালিমের দাম না দিয়েই চলে যান।”
ঘটনার সময় উপস্থিত দর্শন বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শিমুল বলেন, “আমি ও আমার ছোট ভাই সোলাইমান সাব্বির দোকানে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ এক নেতা চিৎকার শুরু করেন যে তাঁর খাবারে পোকা পাওয়া গেছে। খাবার ঢেকে না রাখার বিষয়টি নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে তিনি হালিম ছুঁড়ে মারেন দোকানির গায়ে এবং জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টাও করেন। এ ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে এমন অপমানজনক আচরণ কাম্য নয়।”
তবে এ বিষয়ে দর্শন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোলাইমান সাব্বিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হুসনে মোবারক বলেন, “আমি কারও গায়ে কিছু ছুঁড়ে মারিনি; বাইরে ছুঁড়ে ফেলেছি। আমি শুধু বলেছি এদিকে আয়, তোকে খাওয়াই। তাঁর দোকানের খাবার নিয়ে আগেও ১০-১২ জনের অভিযোগ আছে। আমি বিষয়টি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরব এবং প্রয়োজন হলে দোকানটি বন্ধের দাবি জানাব।”
অন্যদিকে জাকসুর সদস্য মোহাম্মদ চিশতী বলেন, “আমরা দুজন খেতে গিয়েছিলাম। হালিমে মাছি পাওয়ার পর শুধু বিষয়টি জানানো হয়েছে। অন্য কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা টাকা পরিশোধ করেই চলে এসেছি।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করে বটতলার দোকানদাররা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানান এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে সব দোকান বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
