একজন সন্তানের কাছে মায়ের শেষ বিদায় বা শেষবারের মতো মুখ দেখার সুযোগ না পাওয়া যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক, সেই চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।
দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি এই নেতার মায়ের মৃত্যু হলেও তাঁকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
ডাবলু সরকারের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাঁকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ১৮ মাস ধরে নির্জন সেলে বন্দি থাকা অবস্থায় তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
অসুস্থ অবস্থায় যথাযথ চিকিৎসার অভাব এবং অমানবিক কারাপরস্থিতির মধ্যেই গত ২০ নভেম্বর (২০২৫) তাঁর মা পরলোকগমন করেন। কিন্তু মানবিক কারণে আবেদন করা সত্ত্বেও তাঁকে মায়ের জানাজায় অংশ নিতে বা শেষ দেখা দেখতে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনাটি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং এটি মানবাধিকারের এক চরম লংঘন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। একজন বন্দীর মৌলিক ও মানবিক অধিকার কোথায় সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য যাই থাকুক না কেন, একজন সন্তানের জন্য মায়ের শেষ বিদায়ে উপস্থিত থাকতে না পারা যেকোনো শাস্তির চেয়েও কঠোর ও হৃদয়বিদারক।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন একজন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই শাস্তির মতো আচরণ করা আইনের শাসনের পরিপন্থী।
রিমান্ডের নামে নির্যাতন এবং মানবিক অধিকারের এমন উপেক্ষা রাষ্ট্রব্যবস্থার ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ডাবলু সরকারের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় যন্ত্র যখন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সেখানে মানবিকতা ও আইনের শাসনের ন্যূনতম প্রতিফলনও বিরল হয়ে পড়ে।
