নিজস্ব প্রতিনিধি : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং জ্বালানি সংকটে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন নানামুখী ‘কার্ড’ প্রথার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন বাহারি নামের এসব কার্ডকে জনগণের মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সংকটগুলো কোনো যান্ত্রিক সমস্যা নয় যে কার্ড প্রবেশ করালেই সমাধান হয়ে যাবে; বরং এটি সরকারের নীতিগত ব্যর্থতার প্রতিফলন।
বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দেশজুড়ে শিশুরা সঠিক সময়ে টিকা পাচ্ছে না, ফলে বাড়ছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিগত আমল থেকে শুরু হওয়া নারী নির্যাতনের ধারা বর্তমানে আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।
টিভি, পত্রিকা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের হাহাকার চোখে পড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, যা সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও অস্থিরতা বিরাজমান। প্রতিপক্ষের ওপর হামলা-নির্যাতন অব্যাহত থাকার পাশাপাশি সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ‘মব সন্ত্রাস’ সামাজিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি করেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলার এই চরম অবনতি কি কোনো কার্ড দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব?
এই সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটাই সুর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—সমস্যা সমাধানের কার্ড সরকারের হাতে নেই, বরং আসল কার্ড রয়েছে জনগণের হাতে। আর তা হলো ‘লাল কার্ড’।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং গণ-অসন্তোষ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে এই সরকারকে লাল কার্ড দেখিয়ে বিদায় করার সময় এসেছে বলে দাবি করছেন অনেকে। মাঠ পর্যায়ের ক্ষোভ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাহারি কার্ডের রঙিন স্বপ্নে আর জনগণকে ভুলিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
