নিজস্ব প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ‘জুলাইয়ের মামলা বাণিজ্য’ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে শিশু সন্তানসহ যুব মহিলা লীগের এক নেত্রী শিল্পী বেগমের গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে আনেন তিন
পোস্টে শয়ন দাবি করেন, ২০২৪ সালের ২৪/২৫ জুলাইয়ের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিজেকে আহত দাবি করে ছাত্রলীগের পরিচয়ে তার মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সহায়তা চাইতে যান। ওই শিক্ষার্থীর নাম তাহমিদ মুবিন রাতুল, যিনি বিজয় ৭১ হলের আবাসিক ছাত্র বলে উল্লেখ করা হয়।
শয়নের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারটির দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে চানখাঁরপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয় রাতুল এবং চিকিৎসার সামর্থ্য তাদের নেই। বিষয়টি জানার পর ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান (মিজান ভাই) তাকে ফোন করেন। পরে শয়ন নিজেও ওই শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন।
তিনি আরও জানান, মতাদর্শ যাই হোক, মানবিক দিক বিবেচনায় তিনি মিজানকে অনুরোধ করেন যেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে ছেলেটির চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ওই পরিবারের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয় বলে অভিযোগ করেন শয়ন। তার দাবি, ওই শিক্ষার্থীর বাবা একটি মামলায় তাকে, সাদ্দাম, ইনান ও সৈকতসহ প্রায় ২০০ জনকে আসামি করেন। ওই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে সৈকত দীর্ঘ ২১ দিন রিমান্ডে থাকার পর আরও ৭ দিনের রিমান্ড ভোগ করেন এবং এখনও কারাগারে রয়েছেন।
এছাড়া, একই ব্যক্তির বাবা আরও একটি পৃথক মামলা দায়ের করেন, যেখানে অভিযোগ করা হয় ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার বাসায় হামলা, লুটপাট এবং হত্যার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে। এই মামলায় যুব মহিলা লীগের নেত্রী শিল্পী বেগমকে তার দেড় মাস বয়সী শিশুসন্তানসহ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পোস্টে শয়ন অভিযোগ করেন, “জুলাইয়ের মামলা বাণিজ্যের কারণে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ আজ কারাগারে রয়েছে” এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
