নিজস্ব প্রতিনিধি : কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনরত দুই সাংবাদিককে রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে কলেজের মূল ফটকের সামনে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকদের প্রথমে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহত দুই সাংবাদিক হলেন— ‘ডেইলি ক্যাম্পাস’-এর প্রতিনিধি ও কলেজ সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব শেখ এবং ‘সোনালী নিউজ’-এর প্রতিনিধি ওবায়দুল হক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পহেলা বৈশাখের কনসার্টে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে গত রাতে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমেদ ফাহিম ও সদস্য সচিব নাজমুল হাসানের অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। সেই ঘটনার জেরে আজ দুপুরে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ালে সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে যান।
হামলার শিকার বিপ্লব শেখ অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রড ও ছুরি নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল। রক্তাক্ত দুজনকে দেখে ভিডিও শুরু করতেই যুগ্ম-আহ্বায়ক রকি ও ইভান সাব্বিরসহ একদল কর্মী তাঁর মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং রড দিয়ে তাঁর হাত ও পায়ে আঘাত করে। একইভাবে ওবায়দুল হককেও মাথায় ও পায়ে রড দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ফোনটি ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কবি নজরুল কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আতিক হাসান শুভ। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক জয় হাজরা জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম রয়েছে।
এদিকে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম ঘটনাটিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
