নিজস্ব প্রতিনিধি
ঢাকা দুর্নীতি ও কমিশনের মতো গুরুতর অভিযোগের পাহাড় মাথায় নিয়েও শেষ পর্যন্ত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে অব্যাহতি প্রত্যাহার করে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে। গত ১৬ এপ্রিল দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সেল থেকে প্রেরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের নেপথ্যে ও দায়মুক্তির কৌশল উল্লেখ্য যে, গত ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, বিশেষ করে দুর্নীতি ও অনৈতিক কমিশন বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তানভীরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল। সে সময় তাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও, মাত্র এক বছরের মাথায় তাকে ‘নির্দোষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হলো। দলের একটি অংশ মনে করছে, প্রকৃত তদন্তের চেয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা ও অভ্যন্তরীণ বলয়ের চাপেই এই অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নামমাত্র তদন্ত ও রহস্যময় মুক্তি কেন্দ্রীয় কমিটি দাবি করেছে, দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সমালোচকরা বলছেন, দুর্নীতি ও কমিশনের মতো বিষয়গুলো যেখানে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত, সেখানে কোনো স্বচ্ছ এবং প্রকাশ্য তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই তাকে অব্যাহতি দেওয়া দলের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
পুনর্বহাল ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত পত্রে তাকে পুনরায় যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন নেতাকে তড়িঘড়ি করে স্বপদে ফিরিয়ে আনাকে এনসিপি-র অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার শিথিলতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এর মাধ্যমে দলের ভেতরে দুর্নীতিবাজদের জন্য একটি নমনীয় বার্তা পাঠানো হলো, যা ভবিষ্যতে সংগঠনকে আরও বেশি বিতর্কিত করতে পারে।
তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করেই এই পুনর্বহাল আদতে ‘আইওয়াশ’ কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, এই সিদ্ধান্ত দলের জন্য ‘জবাবদিহিতার চর্চা’ নয় বরং ‘দায়মুক্তি সংস্কৃতি’রই নামান্তর।
