নিজস্ব প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক তারকা পেসার তাপস বৈশ্য দেশের ক্রিকেটে বিদ্যমান বৈষম্য নিয়ে এক বিষ্ফোরক ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বর্তমান ক্রিকেট সংস্কৃতিতে অধিনায়ক এবং সাধারণ খেলোয়াড়দের মধ্যে সুযোগ-সুবিধার বিশাল ফারাক নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। এমনকি এই বৈষম্যের কারণে নিজেকে সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিতেও লজ্জা বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন এই পেসার।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি আঙুল তোলেন ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান নীতির দিকে। তার ক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল মাঠে বসে খেলা দেখার আমন্ত্রণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অসম বণ্টন।
তাপস বৈশ্য তার পোস্টে লিখেছেন, “আগে থেকেই খেলা দেখার জন্য অধিনায়কদের জন্য এসি বক্স আর অন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের জন্য সাধারণ গ্যালারি! আর এখন তো কার্ড! একদিন ভিডিও করে সকলকে বলবো এই যুগেও কেমন বৈষম্য হয়!”
তিনি আরও যোগ করেন, “অধিনায়করা রাজা আর অন্যরা প্রজা! অধিনায়ক হলেই তুমি চৌধুরী আর অন্য সতীর্থরা? খেলে তো সকলেই মিলে ১১ জন বা ১৪ জন, খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সকলেই জাতীয় খেলোয়াড়!”
কিংবদন্তি স্পিনার মোহাম্মদ রফিকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন জনপ্রিয়তার মাপকাঠি নিয়ে। তাপস লিখেছেন, “রফিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় খেলোয়াড় কয়জন অধিনায়ক আছেন? রফিক ভাই বসবেন সাধারণ গ্যালারিতে আর আনকোরা অধিনায়ক এসি বক্সে? কারো যদি আত্মসম্মান থাকে, তাহলে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবে।”
খেলোয়াড়দের কল্যাণে বোর্ডের নেওয়া পদক্ষেপগুলো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার মতে, অধিনায়কদের জন্য বিশেষ হেলথ ইন্সুরেন্স বা বীমা সুবিধা থাকলেও সাধারণ সতীর্থদের ক্ষেত্রে তা উপেক্ষিত। যারা বর্তমানে বিশেষ সুবিধা বা ‘কার্ড’ পাচ্ছেন, তারা আত্মসম্মানের তোয়াক্কা না করে চুপ থাকছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সবশেষে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষ পদ নিয়ে নিজের চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন তাপস বৈশ্য। তিনি চান না ভবিষ্যতে আর কোনো সাবেক খেলোয়াড় বোর্ড সভাপতির দায়িত্ব পালন করুক। তার ভাষায়, “আমি চাই আর যেনো কখনোই কোনো সাবেক খেলোয়াড় বোর্ড সভাপতি না হয়… সব দেখা হয়ে গেছে…”
উল্লেখ্য, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তাপস বৈশ্য ২১টি টেস্ট ও ৫৬টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। মাঠের এক সময়ের লড়াকু এই ক্রিকেটারের এমন মন্তব্য এখন দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার এই সাহসী অবস্থানকে সমর্থন জানাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ একে বিসিবির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।
