নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজস্ব আদায় ও ব্যাংক খাত সংস্কারে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার দায় এসে পড়েছে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ওপর। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া শর্তগুলো সময়মতো পূরণ না হওয়ায় জুন প্রান্তিকের ঋণের কিস্তি স্থগিত করেছে সংস্থাটি। এর ফলে ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী অর্থ ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ওয়াশিংটনে আইএমএফের কড়া বার্তা: গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শ্রীনিবাসন বলেন, “শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় থাকায় এখনই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কারের উপযুক্ত সময়। রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতি গত তিন বছরে আরও অবনতি হয়েছে, যা অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণে একেবারেই অপর্যাপ্ত।”
বকেয়া কিস্তি ও সংস্কারের চাপ: ২০২৩ সালে শেখ হাসিনা সরকারের সময় আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের চুক্তি হয়, যা পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বেড়ে ৫৫০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। এ পর্যন্ত ৩৬৪ কোটি ডলার ছাড় করা হলেও গত ডিসেম্বরের কিস্তিটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনার অজুহাতে আটকে দেয় আইএমএফ। বাংলাদেশ আশা করেছিল, জুনে বকেয়াসহ প্রায় ১১৩ কোটি ডলার পাওয়া যাবে। তবে আইএমএফ সাফ জানিয়েছে, রাজস্ব খাত, আর্থিক খাতের পুনর্বাসন এবং বিনিময় হার সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া অর্থ ছাড় সম্ভব নয়।
বর্তমান সরকারের অবস্থান: গত মাসে বাংলাদেশ সফরে আসা আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে বড় ধরনের সংস্কারের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। আইএমএফ এখন পর্যবেক্ষণ করছে বর্তমান সরকার এই ‘কঠিন’ সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে কতটা সাহসী পদক্ষেপ নেয়। এই কিস্তি স্থগিত হওয়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
