জুলকারনাইনের ফেসবুক স্ট্যাটাস
নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) হতাশাজনক চিত্র এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর কর্মদক্ষতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও কলামিস্ট জুলকারনাইন সায়ের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, বিডা চেয়ারম্যানের প্রশাসনিক অজ্ঞতা ও অপেশাদারিত্বের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
বিনিয়োগে ধস ও ‘ওয়েট-অ্যান্ড-সি’ পরিস্থিতি: জুলকারনাইন সায়ের তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের নেট ইকুইটি ইনফ্লো দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৫৪.৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালের তুলনায় মাত্র ১.৮ শতাংশ বেশি। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইকোনমিক রিভিউ ২০২৫ অনুযায়ী নিবন্ধিত বেসরকারি বিনিয়োগ প্রকল্পের সংখ্যা বছরওয়ারি হিসেবে ৫৮ শতাংশ কমে গেছে। সায়েরের মতে, বিনিয়োগকারীদের গত বছরের ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ (Wait-and-see) মনোভাব এখন ‘অন্যত্র চলে যাওয়ার’ সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে অপেশাদার আচরণ: বিডা চেয়ারম্যানের অযোগ্যতার একটি উদাহরণ টেনে সায়ের জানান, গত ডিসেম্বর মাসে এক বিদেশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে বৈঠকে আশিক চৌধুরী বিনিয়োগের সুফল হিসেবে ‘কর্মসংস্থান’ ও ‘রিজার্ভ’ বৃদ্ধির কথা বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই বিনিয়োগকারী প্রশ্ন করেন, “আমি কি এখানে দাতব্য কাজ করতে এসেছি?” সায়ের অভিযোগ করেন, বাণিজ্যিক বিনিয়োগকারীর সামনে উন্নয়ন সংস্থার মতো কথা বলা বিডা চেয়ারম্যানের অদক্ষতারই প্রমাণ। এছাড়া ইন্ট্রাকম্পানি ঋণের মতো কারিগরি বিষয়েও আশিক চৌধুরী ভুল তথ্য দিয়েছেন বলে সায়ের তাঁর স্ট্যাটাসে দাবি করেন।
আইন সংস্কার ফেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ততা: অনুসন্ধানী এই সাংবাদিক আরও উল্লেখ করেন, বিডা ও বেজা আধুনিকায়নের বুলি দিলেও আশিক চৌধুরী ৩০ বছরের পুরনো বিনিয়োগ সুরক্ষা আইন হালনাগাদ করেননি। এর পরিবর্তে তিনি জাতীয় সম্পদ ও সময় অপচয় করে টিকটক ও ফেসবুক রিলসে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনে ব্যস্ত রয়েছেন। সায়েরের মতে, যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে এমন অযোগ্য কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা জাতীয় অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান: স্ট্যাটাসের শেষে জুলকারনাইন সায়ের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাহ্যিক চাকচিক্যে বিভ্রান্ত না হয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করুন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থবির অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বিডা ও বেজার মতো সংস্থায় এখনই দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
