নিজস্ব প্রতিনিধি: ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন ইতিহাসের কঠিনতম সময় পার করছে, তখন দলটিকে সংস্কার করে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ গঠনের গুঞ্জনকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কিংবা সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীকে দিয়ে নতুন কোনো কমিটি গঠনের ধারণাকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে তৃণমূলের বার্তা স্পষ্ট তাঁরা কেবল শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ থাকতে চান।
দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন মূলত অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্ভর। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের পুনর্গঠন বা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল।
বিশেষ করে মার্জিত ইমেজের নেতাদের সামনে এনে একটি ‘সংস্কারবাদী’ আওয়ামী লীগ গঠনের গুঞ্জন ডালপালা মেলে। তবে তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের মতে, দুঃসময়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই চেষ্টা দলকে আরও দুর্বল করার একটি অপকৌশল মাত্র।
দেশের বিভিন্ন ইউনিটের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা কোনো ‘কিংস পার্টি’ বা সংস্কারবাদী নেতৃত্বের অধীনে রাজনীতি করতে ইচ্ছুক নন। তাঁদের দাবি, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, সেটিই তাঁদের জন্য চূড়ান্ত। হাজারো মামলা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও কর্মীরা বিশ্বাস করেন, কেবল শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
বর্তমানে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা হয় কারাগারে, না হয় আত্মগোপনে। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূল কর্মীরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তাঁদের ভাষায়, “নেত্রী আমাদের ছেড়ে যাননি, তিনি পরিস্থিতি বিবেচনায় দূরে আছেন। আমাদের আস্থা কেবল তাঁর ওপরই আছে এবং থাকবে।” যেকোনো ধরনের সংস্কারের চেষ্টার বিরুদ্ধে তাঁরা অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
