নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশের নাট্যমঞ্চের কিংবদন্তি পুরুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর জন্মদিন আজ। ১৯৫০ সালের ১৫ এপ্রিল তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এদেশের নাটক, চলচ্চিত্র এবং সাংগঠনিক ক্ষেত্রে এক বিশাল বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে আসছেন। বর্ণিল জীবনের অধিকারী এই মানুষটি কেবল একজন নির্দেশকই নন, বরং স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের অন্যতম সেনাপতি।
বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় নাসির উদ্দিন ইউসুফ ও নাট্যকার সেলিম আল দীন যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ১৯৭২ সালে ‘নাট্যক্রম’ দলের মাধ্যমে শুরু হলেও ১৯৭৩ সালে তাঁরা দুজন মিলে প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহাসিক মঞ্চদল ‘ঢাকা থিয়েটার’। পাশ্চাত্য ধারার বাইরে গিয়ে দেশীয় লোকজ আঙ্গিককে মঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার প্রধান রূপকার ছিলেন তাঁরা।
নাসির উদ্দিন ইউসুফের নির্দেশনায় ‘কীর্তনখোলা’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘হাতহদাই’, ‘যৈবতীকন্যার মন’ এবং ‘নিমজ্জন’-এর মতো নাটকগুলো বাংলা নাট্যসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হয়ে আছে। এছাড়াও গ্রামবাংলার মানুষের কাছে নাটক পৌঁছে দিতে তিনি গড়ে তোলেন ‘গ্রাম থিয়েটার’, যার প্রায় আড়াইশ শাখা সারাদেশে প্রান্তিক পর্যায়ের নাট্যচর্চাকে সচল রেখেছে।
নির্দেশনার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণেও নাসির উদ্দিন ইউসুফ রেখেছেন মেধার স্বাক্ষর। তাঁর পরিচালিত ‘গেরিলা’ চলচ্চিত্রটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি লাভ করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এছাড়া ‘একাত্তরের যিশু’ এবং ‘আলফা’র মতো চলচ্চিত্রগুলো তাঁর মুন্সিয়ানার পরিচয় দেয়। ১৯৮০ সালে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকির ‘ঘুড্ডি’ চলচ্চিত্রে ‘বাচ্চু’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।
বর্তমানে তারেক রহমান সরকারের শাসনামলে নাসির উদ্দিন ইউসুফ তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন। এদেশের মিডিয়া অঙ্গনের দিকপাল হুমায়ুন ফরীদি, সুবর্ণা মুস্তাফা, আফজাল হোসেন এবং রাইসুল ইসলাম আসাদের মতো তারকাদের গড়ে ওঠার পেছনে তাঁর অনন্য অবদান রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে তিনি ২০১০ সালে লাভ করেন ‘একুশে পদক’। সাংস্কৃতিক পরিবারে তাঁর সহধর্মিনী সঙ্গীতশিল্পী শিমুল ইউসুফ এবং একমাত্র সন্তান এষা ইউসুফও নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চার সাথে যুক্ত। জন্মদিনে এই বীর যোদ্ধার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছে দেশবাসী। –
