নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে আমেরিকান বাংলাদেশী কমিউনিটি হেল্প (ABCH) গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী বৈশাখী আয়োজন “ABCH পটলাক পান্তা ইলিশ” আজ রবিবার লং আইল্যান্ডের ভ্যালি স্ট্রিম স্টেট পার্কে উৎসবমুখর, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পাঁচ শতাধিক মানুষ পরিবার-পরিজনসহ অংশগ্রহণ করেন। সকাল থেকেই অংশগ্রহণকারীরা বৈশাখী পোশাকে সজ্জিত হয়ে নিজ নিজ বাসায় প্রস্তুতকৃত ভর্তা, ভাজি ও বিভিন্ন দেশীয় খাবার নিয়ে উপস্থিত হন। পটলাক পদ্ধতিতে সবার আনা খাবার ভাগাভাগি করে খাওয়ার মাধ্যমে এক অনন্য ঐক্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়, যা প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতির একটি প্রাণবন্ত প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
আয়োজকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্টেট পার্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে পটলাক ভিত্তিক পান্তা-ইলিশ ও নববর্ষ উদযাপনের এমন আয়োজন এটিই প্রথম। অংশগ্রহণকারীরা রঙিন কাগজের পতাকা ও নকশা দিয়ে পুরো পার্ক সাজিয়ে তোলেন, যা পুরো পরিবেশকে বৈশাখী আমেজে ভরিয়ে তোলে।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, নারী ও পুরুষদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক খেলা, নৃত্য, সঙ্গীত, ফ্যাশন শো এবং র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে শিশু-কিশোরসহ সকল বয়সী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড়ের পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে ইলিশ মাছ সরবরাহে সহযোগিতা করে “মাছওয়ালা” ব্র্যান্ড (Ethnic Foods)। এছাড়া স্টার ফার্নিচার বিভিন্ন খেলায় বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার প্রদান করে। “ক্রাফটিডিয়াস” নামের একটি দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণকারীদের জন্য পাখা, একতারা ও অন্যান্য দেশীয় সামগ্রী উপহার দেয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে গ্রুপের অ্যাডমিন তরিকুল ইসলাম মিঠু বলেন, “ABCH পান্তা ইলিশ শুধু একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, এটি প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ঐক্য, সম্প্রীতি ও কমিউনিটি বন্ধনের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম বাংলা নববর্ষের চেতনা ও দেশীয় ঐতিহ্যের সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত হোক।”
তিনি আরও বলেন, “এ আয়োজন সফল করতে যারা সময়, শ্রম ও সহযোগিতা দিয়েছেন ABCH পরিবারের সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক, অংশগ্রহণকারী, শুভানুধ্যায়ী ও পৃষ্ঠপোষক সবার প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কমিউনিটি সম্প্রীতি জোরদারে এ ধরনের আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে অব্যাহত থাকবে।
