নিজস্ব প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ গণহত্যা দিবস স্মরণে তীব্র ক্ষোভ ও দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। এই দিবসকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের শতাধিক স্থানে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ে এই ধরনের ব্যাপক গণজমায়েত দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন বার্তা দিচ্ছে।
আজ সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রাজপথে নামতে শুরু করেন। দুপুরের পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মূল সমাবেশটি বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে গোপালগঞ্জ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং এর নেপথ্যের কুশীলবদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
তীব্র প্রতিবাদের এই হাওয়া কেবল ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দেশের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার বাইরে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরসহ শতাধিক জেলা ও উপজেলায় একযোগে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জে আজ মানুষের ঢল নেমেছিল, যেখানে কালো ব্যাজ ধারণ করে হাজার হাজার মানুষ শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে রাজপথে নামেন। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটে তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে বিশাল গণমিছিলের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
সমাবেশে অংশ নেওয়া এক শীর্ষ নেতা দাবি করেন, “এই স্বতঃস্ফূর্ত গণমিছিল প্রমাণ করে যে, বাংলার মানুষ অন্যায় ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার। রক্তের দাগ মুছে ফেলার চেষ্টা কখনো সফল হবে না।” বিক্ষোভ মিছিলগুলো থেকে একটিই মূল দাবি জোরালোভাবে উঠে এসেছে—গোপালগঞ্জ গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের অতি দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তিকামী জনগণ রাজপথ ছাড়বে না।
