নিজস্ব প্রতিনিধি : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্কেনেকটাডি শহরে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বাবা রবার্ট এস. বাসকি জুনিয়রকে ২৭ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাঁচ বছর বয়সী শিশুকন্যা শার্লট বাসকিকে মাসের পর মাস একটি কক্ষে তালাবদ্ধ রেখে অভুক্ত অবস্থায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে রবার্ট বাসকি দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা এবং একটি শিশুকে নিয়ন্ত্রিত মাদক দেওয়ার অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেন। চলতি বছরের ৩ এপ্রিল আদালত তাকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে আরও দুই বছরের সাজা প্রদান করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল, যখন জরুরি সেবাকর্মীরা স্কেনেকটাডির একটি বাড়িতে শার্লটের নিথর দেহ উদ্ধার করেন। শিশুটিকে একটি শোবার ঘরে বাইরে থেকে অতিরিক্ত তালা ও টেপ দিয়ে এমনভাবে আটকে রাখা হয়েছিল যে তার পক্ষে বের হওয়া অসম্ভব ছিল। ঘরের ভেতরে কেবল একটি ছোট পোর্টেবল শিশু খাট ছিল, যেখানে স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোর কোনো পরিবেশ ছিল না।
তদন্তে উঠে আসে, বাড়িতে প্রচুর খাবার মজুত থাকা সত্ত্বেও শার্লটকে ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিশুটি মারাত্মক অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় ভুগে মৃত্যুবরণ করেছে। তার শরীরের গঠন ছিল অত্যন্ত ক্ষয়প্রাপ্ত এবং পাকস্থলীতে কোনো খাবারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
মৃত্যুর সময় শিশুটির ওজন ছিল মাত্র ৩০ পাউন্ড, যা তার বয়সের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম। শুধু শার্লটই নয়, তার তিন বছর বয়সী ছোট ভাইকেও বাড়ির ডাইনিং রুমে তৈরি একটি অস্থায়ী খাঁচায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করা হতো। দুই শিশুর শরীরেই কোকেনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্যমতে, অভিযুক্ত বাবা নিজের সন্তানদের তালাবদ্ধ করে রেখে নিজে মাদক সেবন ও ভিডিও গেমে মগ্ন থাকতেন। শিশুরা দীর্ঘদিন বাইরের জগত, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ছিল।
সাজা ঘোষণার সময় বিচারক রবার্ট বাসকির কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও মানবতাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, একজন অভিভাবকের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো সন্তানকে নিরাপত্তা দেওয়া, যা এখানে চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। একই সঙ্গে বেঁচে থাকা ছেলেসন্তানের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।
