আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির টেবিলে এক নজিরবিহীন ও নতুন মোড় সামনে এসেছে। দলীয় ও (কূটনৈতিক) বিভিন্ন উচ্চস্তরের সূত্র থেকে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কোনো সাধারণ রাজনৈতিক আশ্রয় বা লজিস্টিক সাপোর্টে নয়, বরং প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতে সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও সর্বোচ্চ ‘রাষ্ট্রীয় অতিথি’ (State Guest) হিসেবে অবস্থান করছেন। খোদ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নীতি-নির্ধারণী মহলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের পক্ষ থেকেও ইতিপূর্বে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনাকে সেখানে সর্বোচ্চ প্রোটোকল ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে।
শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো অত্যন্ত জোর দিয়ে বলছেন, আগামী দিনে শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশে ফিরবেন, তখন কোনো লুকোচুরি বা সাধারণ প্রক্রিয়ায় নয়, বরং সম্পূর্ণ যথাযথ ও আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার মধ্য দিয়েই তাঁর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘটবে। ভারতের রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে পাওয়া এই আন্তর্জাতিক প্রোটোকল ও আইনি বৈধতা তাঁর দেশে ফেরার পথকে আন্তর্জাতিক মহলে যেমন এক শক্তিশালী ভিত দিচ্ছে, ঠিক তেমনি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণকেও এক মস্ত বড় মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের তরফ থেকে শেখ হাসিনাকে এই আনুষ্ঠানিক ‘রাষ্ট্রীয় অতিথি’র মর্যাদা প্রদান এবং পরবর্তীতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মানের সাথে তাঁকে স্বদেশে ফেরত পাঠানোর এই রূপরেখা কেবল একটি সাধারণ দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক বিশাল কৌশলগত বার্তা। দেশের ভেতরের বিরোধী পক্ষ যখন তাঁর অবস্থান ও আইনি ভবিষ্যৎ নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন ছড়ানোর চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই শেখ হাসিনার এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফেরার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রতিপক্ষ শিবিরের রাজনৈতিক কুশীলবদের মনে এক নজিরবিহীন অস্বস্তি ও নতুন করে রণকৌশল সাজানোর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ঢাকার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এবং দিল্লির সাউথ ব্লক পর্যন্ত এখন একটাই চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে যে, এই রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রত্যাবর্তন আগামী দিনগুলোতে দেশের রাজপথের ক্ষমতার সমীকরণ এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে কতটা নাটকীয়ভাবে পুনর্নির্ধারণ করতে পারে।
আওয়ামী লীগের তৃণমূলের লাখো-কোটি উজ্জীবিত নেতাকর্মী এই প্রোটোকলের খবরটিকে নিজেদের সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক বিজয় হিসেবে দেখছেন এবং রাজকীয় এই প্রত্যাবর্তনের মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য ভেতরে ভেতরে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলের ভেতরে এই বার্তাটি নেতাকর্মীদের নতুন করে উজ্জীবিত করে তুলেছে। বেঙ্গলি জার্নালের বিশেষ আন্তর্জাতিক, কূটনৈতিক ও কৌশলগত রাজনৈতিক উইং ভারতের সাউথ ব্লকের অভ্যন্তরীণ প্রোটোকল সিদ্ধান্ত, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় লিয়াজোঁ কমিটির তৎপরতা এবং শেখ হাসিনার এই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফেরার বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার প্রতিটি মুহূর্তের খবরাখবর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিমুহূর্তে অনুসন্ধান করছে।
