ওয়াশিংটন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ব্যাপক আকারে হ্রাস পেয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন এক জাতীয় জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের (Midterm Elections) আগে রিপাবলিকান শিবিরের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খ্যাততনামা জরিপ সংস্থা ‘এশেলন ইনসাইটস’ (Echelon Insights)-এর জুলাই ২০২৬ সালের সদ্য প্রকাশিত ‘ভেরিফাইড ভোটার ওমনিবাস’ জরিপ অনুযায়ী, বিশেষ করে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন লক্ষণীয়ভাবে কমেছে। অথচ ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই তরুণ ভোটাররাই তার বিজয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ট্রাম্প-কার্ড হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন।
জরিপের ফলাফল: তরুণদের চরম অনীহা: প্রকাশিত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশজুড়ে সামগ্রিকভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন রয়েছে মাত্র ৩৮ শতাংশ মানুষের, যেখানে বড় একটি অংশ অর্থাৎ ৬১ শতাংশ মানুষই তার কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট। তবে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষের চিত্র আরও ভয়াবহ। এই তরুণ বয়সীদের মাত্র ৩৫ শতাংশ বর্তমান প্রেসিডেন্টের কাজের অনুমোদন (Approval) দিয়েছেন এবং ৬৫ শতাংশ মানুষই তার প্রতি সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের প্রতি মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন কমেছে ১৫ পয়েন্ট এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে এই সমর্থন কমেছে ১৪ পয়েন্ট। তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ (জানুয়ারি ২০২৫) শুরু হওয়ার সময় থেকে হিসাব করলে পতনটা আরও চমকে দেওয়ার মতো। গত দেড় বছরে তরুণদের মাঝে তার জনপ্রিয়তা কমেছে প্রায় ৩৭ পয়েন্ট।
নেপথ্যে তীব্র অর্থনৈতিক হতাশা : কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের এই দ্রুত দূরে সরে যাওয়ার পেছনে প্রধানত জোরালো ভূমিকা রাখছে দেশটির চলমান অর্থনৈতিক সংকট। জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয়, তীব্র আবাসন সংকট এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক অনিশ্চয়তা মার্কিন তরুণ সমাজকে দিশেহারা করে তুলেছে। তারা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত গতি আনতে পারেনি।
হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া ও দাবি :অবশ্য এই জরিপের নেতিবাচক তথ্যকে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি-নির্ধারকেরা। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল দাবি করেছেন যে, ট্রাম্পের প্রশাসন দেশের ভেতর এবং আন্তর্জাতিকভাবে নানা ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে। দেশের অভ্যন্তরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের নেওয়া নানামুখী সাহসী পদক্ষেপের সুফল আগামী দিনগুলোতে আমেরিকার মানুষ আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউস মুখে আশার বাণী শোনালেও ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের জন্য তরুণ ভোটারদের এই বড় ধাক্কা সামলানোই এখন হবে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
