নিজস্ব প্রতিনিধি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে যে বাংলাদেশ শিশু মৃত্যুর হার প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। আজ সেই দেশ শিশুদের মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। সাবেক ইউনূস প্রশাসন ও বর্তমান বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের চরম উদাসীনতা, ভুল নীতি এবং লোভী মানসিকতার মাশুল দিচ্ছে দেশের নিষ্পাপ শিশুরা।
অভিযোগ উঠেছে, ইউনূস সরকার তার শাসনামলে প্রয়োজনীয় টিকা ক্রয় না করে শিশুদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মীদের ছাঁটাই করে নিজের এনজিও কর্মীদের মাঠ পর্যায়ে নিয়োগ দেওয়ার হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। মূলত স্বাস্থ্যখাতকে কুক্ষিগত করার এই ‘এনজিও-মডেল’ বাস্তবায়নের লোভে টিকার নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বর্তমান বিএনপি সরকারও একই পথ অনুসরণ করায় দেশের টিকাদান কর্মসূচি এখন ধ্বংসের মুখে। ফলে দেশজুড়ে আবারও ফিরে এসেছে হাম ও বসন্তের মতো ঘাতক ব্যাধি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ (১১ এপ্রিল) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৯ জনে। এর মধ্যে ২৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে এবং ১৪৫ জন সন্দেহজনক হামে মারা গেছে। আক্রান্তের সংখ্যাও ছাড়িয়েছে ১৮ হাজার, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়াবহ সংকেত। শুধু ঢাকা বিভাগে হামে আক্রান্ত ৭,৪৭৮ জন শিশু ও রাজশাহী বিভাগে ৩,৪৪৯ জন ।
অথচ চিত্রটি কয়েক বছর আগেও ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। শিশুদের প্রতি জননেত্রী শেখ হাসিনার মমতা ছিল সর্বজনবিদিত। তিনি শিশুদের সুস্থতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি বছর ঘটা করে ‘টিকাদান সপ্তাহ’ পালন করতেন। তার সময়ে স্বাস্থ্যখাতে নেওয়া বৈপ্লবিক পদক্ষেপের কারণে কোনো শিশুকে টিকার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি অর্জন করেছিলেন ‘ভ্যাকসিন হিরো’ খেতাব। শেখ হাসিনার সেই সাজানো বাগান আজ বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর অদূরদর্শিতায় মরুভূমি হতে চলেছে।
“আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হাম বা এ জাতীয় রোগ ছিল নিয়ন্ত্রিত। শেখ হাসিনা শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, একজন মাতৃতুল্য অভিভাবক হিসেবে শিশুদের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করেছিলেন। বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও লোভের কারণে আজ শিশুরা মরছে।” — সাধারণ জনমনে এমন ক্ষোভ এখন সর্বত্র।
ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, যদি দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি পুনর্গঠন করা না হয় এবং রাজনৈতিক সংকীর্ণতা পরিহার করে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজে ফেরানো না হয়, তবে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে বর্তমান প্রশাসনের দায় ক্রমেই ভারী হচ্ছে।
