নিজস্ব প্রতিনিধি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়কে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের রায়’ হিসেবে অভিহিত করে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটির দাবি, এই রায়টি অসম্পূর্ণ, পক্ষপাতদুষ্ট এবং পূর্বনির্ধারিত একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অংশ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্যাডে সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রলীগ দাবি করে, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের কোনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করেই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্যমতে, “২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের শুরু থেকেই ছাত্রলীগ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে ছিল। কিন্তু একটি অশুভ ঘাতকগোষ্ঠী ‘টার্গেট কিলিং’-এর মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে আন্দোলনকে সরকার পতনের ষড়যন্ত্রে রূপ দেয়।”
মামলার রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি), প্রক্টর, শিক্ষক এবং অনেক শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদানের তীব্র সমালোচনা করেছে ছাত্রলীগ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, তাদেরও রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে অবিশ্বাস্য ও দুর্বল ভিত্তির অভিযোগে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এটি ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী এবং বর্তমান বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ছাত্রলীগ অভিযোগ করেছে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যারা সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করেছে, তারা নিজেদের দায়মুক্তি দিতে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে রাষ্ট্রের সকল অঙ্গকে ব্যবহার করছে। তাদের মতে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সকল হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু করলেও বর্তমান সরকার সেই সত্য আড়াল করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছাত্রলীগ এই তথাকথিত রায় প্রত্যাখান করছে এবং একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে। সংগঠনটির বিশ্বাস, একদিন এই ঘটনার প্রকৃত চিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হবে।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার এই রায়কে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের এই কঠোর অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গণহারে সাজা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।
