নিজস্ব প্রতিনিধি
জামালপুরে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিস্ফোরক মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে অবিচারের শিকার হয়েছেন ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মী। বুধবার (৮ এপ্রিল) তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামিন প্রার্থনা করলে, আদালত তা না মঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে বর্তমান সরকারের ‘দমন-পীড়নের’ অংশ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
কারাগারে প্রেরিত নেতাকর্মীরা হলেন, ইসলামপুর পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এস এম রাহাত, বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিমুল পারভেজ, ইসলামপুর কলেজ ছাত্রলীগের বিভাগীয় সম্পাদক বিশাল শেখ, কলেজ কর্মী সজীব মন্ডল এবং মলমগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার কর্মী মোখলেছ।
স্থানীয় ছাত্রলীগ ও অভিভাবক মহলের দাবি, উল্লিখিত নেতাকর্মীরা কোনো ধরণের অরাজকতার সাথে জড়িত ছিলেন না। শুধুমাত্র রাজনৈতিক আদর্শের কারণে এবং ছাত্রলীগকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করার হীন উদ্দেশ্যে তাদের এই সাজানো মামলায় জড়ানো হয়েছে।
তারা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান বিএনপি সরকার পর্যন্ত—ছাত্রলীগের ওপর যে অসাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞার খড়গ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় এই তরুণ নেতৃত্বকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হলো। তারা অভিযোগ করেন, সারাদেশে ছাত্রলীগের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে ঘরছাড়া করে এবং মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে।
জামিন বাতিলের পর আদালত প্রাঙ্গণে থাকা আইনজীবী ও নেতাকর্মীরা জানান, এটি স্পষ্টত একটি হয়রানিমূলক মামলা। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে এই বিচারে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং নেতাকর্মীরা সগৌরবে মুক্তি পাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলার ফরমায়েশি রায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের এই গ্রেপ্তার অভিযান—সবই একটি পরিকল্পিত নীলনকশার অংশ। তবে দমনের এই নীতি ছাত্রসমাজকে আরও ঐক্যবদ্ধ করবে এবং রাজপথে সংগ্রামের মাধ্যমেই এই অন্যায়ের জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
