নিজস্ব প্রতিনিধি
জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ‘ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপ’ ও ‘গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বুধবার সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ এই ভূখণ্ডের ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি লড়াইয়ে এই দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পাকিস্তানি শাসনামলেও এই দলকে দমনের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে দমন-পীড়ন শেষ পর্যন্ত গণবিস্ফোরণ ঘটিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই ঐতিহাসিক শিক্ষা অস্বীকার করে সংসদকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে।
ছাত্রলীগ দাবি করেছে, এই নিষেধাজ্ঞা সরাসরি বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১ অনুসারে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তা খর্ব করা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ মতে সমাবেশ, সংগঠন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই আইন কেবল দেশীয় সংবিধান নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা মানে নাগরিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করা।
ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এই ‘অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক’ সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, “এই দমনমূলক পদক্ষেপের ফলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়ভার বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীকেই বহন করতে হবে।”
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের এই ঘটনাকে ‘সংসদে গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘোষণা’ হিসেবে চিহ্নিত করে ছাত্রলীগ ঘোষণা করেছে যে, কোনো অন্ধকার আইন দিয়ে গণমানুষের কণ্ঠরোধ করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অবস্থান, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা।অবিলম্বে এই ‘ফ্যাসিবাদী’ আইন প্রত্যাহার। দাবি না মানলে সংগঠিত ও সর্বাত্মক প্রতিরোধ। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গণমানুষের শক্তিকে আটকানো যায় না।
উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ছাত্রলীগের এই কঠোর অবস্থান রাজপথে নতুন কোনো প্রতিরোধের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন জনমনে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
