নিজস্ব প্রতিনিধি
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। বুধবার দুপুরের পর আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, আজ বাংলাদেশের মহান জাতীয় সংসদ এক ন্যাক্কারজনক অধ্যায়ের সাক্ষী হলো। তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত একটি বিতর্কিত ও একপাক্ষিক সংসদ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নিষিদ্ধের যে বিল পাস করেছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা, গভীর উদ্বেগ ও চরম প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মহান জাতীয় সংসদ দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পবিত্রতম স্থান। কিন্তু আজ সেই পবিত্র সংসদকে ব্যবহার করে স্বাধীনতা ও দেশবিরোধী শক্তির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যে অপতৎপরতা চালানো হয়েছে, তা ইতিহাসের পাতায় একটি কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নয়; বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, বহুত্ববাদী রাজনীতি এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের ওপর এক সরাসরি নগ্ন আঘাত।
আওয়ামী লীগ মনে করে, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে গড়ে ওঠা এই গণমানুষের সংগঠনকে আইনি মারপ্যাঁচে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ গণতন্ত্রের মূল চেতনাকেই ধ্বংস করার নামান্তর। এই হঠকারী সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রকে একটি ভয়ঙ্কর একদলীয় ও স্বৈরতান্ত্রিক অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দমন-পীড়ন বা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে জনগণের হৃদয়ে প্রোথিত কোনো সংগঠনকে মুছে ফেলা যায় না। রাজনৈতিক দলের কার্যকারিতা নির্ভর করে জনসমর্থনের ওপর, কোনো একপেশে বিলের ওপর নয়।
দমন-পীড়ন ও আইনের অপপ্রয়োগ সমাজে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা ও বিভাজন সৃষ্টি করবে, যা কোনোভাবেই একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রের জন্য কাম্য নয়। এই নিষেধাজ্ঞা আসলে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এক প্রকার ‘রক্তচক্ষু’ প্রদর্শন, যা সচেতন দেশবাসী কখনোই মেনে নেবে না।
এই সংকটকালীন মুহূর্তে আমরা দেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী সংগঠন এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন রক্ষার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন।
জনগণ ও গণতন্ত্রের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। রক্তে কেনা এই দেশে কোনো অপশক্তিই শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি। আমরা ইতিহাসের অনুপ্রেরণা ও জনগণের ভালোবাসাকে পাথেয় করে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রাম অব্যাহত রাখব।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
