নিজস্ব প্রতিনিধি
দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার এবং অন্যতম মেধাবী সংসদীয় ব্যক্তিত্ব ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর যে ছবি সামনে এসেছে, তা নিয়ে দেশজুড়ে বইছে বিতর্কের ঝড়। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বেঁচে থাকা নিয়ে তীব্র উদ্বেগের পর হঠাৎ এই ‘গ্রেপ্তার নাটক’ জনমনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। গ্রেপ্তারের সময়কার তাঁর শারীরিক অবস্থা ও চেহারা বলে দিচ্ছে, এটি কোনো স্বাভাবিক গ্রেপ্তার নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে চলা অমানবিক নির্যাতনের এক ভয়াবহ প্রতিফলন।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে সেনাবাহিনী তাঁকে কবে, কখন এবং কার কাছে হস্তান্তর করল তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেশবাসীকে জানানো হয়নি। এই নীরবতাই প্রশ্ন তুলছে, দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তিকে নিয়ে পর্দার আড়ালে কী পরিকল্পনা চলছিল?
ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে এতদিন কোনো এক গোপন স্থানে ‘গুম’ করে রাখা হয়েছিল। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর নিরাপত্তা ও জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, ঠিক তখনই তড়িঘড়ি করে তাঁকে বাসা থেকে গ্রেপ্তারের খবর প্রচার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর গ্রেপ্তারের ছবিই বড় প্রমাণ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একজন ভেঙে পড়া, অসুস্থ ও বিধ্বস্ত মানুষকে। যদি তিনি এতদিন নিজ বাসায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন, তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার এমন চরম অবনতি হওয়ার কথা ছিল না। দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনই তাঁকে এই অবস্থায় নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত এবং সফল ব্যক্তিত্ব হিসেবে দল-মত নির্বিশেষে সমাদৃত ছিলেন। তাঁর মতো একজন নারীর ওপর যে ধরনের নির্যাতন করা হয়েছে, তাকে ‘চরম অমানবিক’ এবং ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’র নিকৃষ্টতম উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তির সঙ্গে এমন আচরণ দেশের বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকারের জন্য এক বড় কলঙ্ক।
এই ঘটনা দেশের সুস্থ ধারার রাজনীতির ওপর এক বিরাট ধাক্কা। রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, মেধা ও ক্লিন ইমেজের মানুষদের ওপর যদি এমন অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়, তবে ভবিষ্যতে কোনো যোগ্য ও ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসার সাহস পাবেন না। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর এই পরিণতি আসলে দেশের প্রতিটি সচেতন ও মেধাবী নাগরিকের জন্য এক অশনিসংকেত।
গ্রেপ্তারের নামে এই ‘নাটক’ এবং একজন মেধাবী নারীর ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতনের বিচার কি আদৌ হবে? নাকি প্রতিহিংসার আগুনে এভাবেই পুড়তে থাকবে দেশের রাজনৈতিক শিষ্টাচার? ইউনূস থেকে তারেক রহমানের সরকার কে নেবে এর দায়? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।
