জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধাকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সময়ে চালানো অপপ্রচার, সাইবার বুলিং ও পরিকল্পিত মানহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে তারা তাদের সুস্পষ্ট অবস্থানও ব্যক্ত করেছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড. স্নিগ্ধার বক্তব্যকে প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত অবস্থান সম্পর্কেও বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করা হয়েছে, যা তারা কোনোভাবেই গঠনমূলক সমালোচনা হিসেবে দেখছেন না। বরং এটি একজন শিক্ষককে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা বলে মনে করছেন তারা।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মতে, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যেভাবে আক্রমণাত্মক ভাষা ও ভঙ্গি ব্যবহার করা হয়েছে, তা কেবল একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক বার্তা বহন করে। নৃবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারা বিষয়টিকে “সিম্বলিক টার্গেটিং” হিসেবে দেখছেন, যেখানে একজন নারী শিক্ষককে কেন্দ্র করে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়, যা পরোক্ষভাবে সকল নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ভীতি, নীরবতা এবং আত্মসংযমের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তারা আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলাবিষয়ক ক্ষমতা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত। এ প্রেক্ষাপটে জাকসু বা তার কোনো সদস্যের পক্ষ থেকে এ ধরনের অপপ্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির কোনো এখতিয়ার নেই। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সীমা লঙ্ঘনের শামিল।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই ঘটনাগুলো কেবল ব্যক্তিগত মানহানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এগুলো একটি “জেন্ডারড ন্যারেটিভ” বহন করে। একজন নারী শিক্ষককে লক্ষ্য করে যেভাবে তার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে এবং অনলাইনে আক্রমণের মুখে ফেলা হয়েছে, তা সমাজে বিদ্যমান জেন্ডার পক্ষপাতিত্ব ও সহিংসতার কাঠামোগত বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে।
গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত নৃবিজ্ঞান বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর-সংবলিত একটি স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে। এতে তারা মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য অবিলম্বে প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, জাকসুর অবস্থান স্পষ্টকরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সাইবার বুলিং ও অপপ্রচার রোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, একজন শিক্ষককে লক্ষ্য করে এভাবে আক্রমণ করা মানে শুধু একজন ব্যক্তির সম্মানহানি নয়; বরং এটি এমন একটি একাডেমিক পরিবেশকে আঘাত করা, যেখানে সমালোচনা, বিশ্লেষণ এবং মতপ্রকাশ স্বাধীনভাবে বিকশিত হওয়ার কথা।
