নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর বিধি লঙ্ঘন ও অনৈতিকভাবে পদ দখলের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি উভয়েই তাদের নিয়োগের প্রধান শর্ত ভঙ্গ করে নিজ নিজ পূর্বতন পেশা ও পদ আঁকড়ে ধরে আছেন বলে জানা গেছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যে কোনো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কার্যকর হওয়ার পূর্বশর্ত হলো অন্য সকল পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করা। কিন্তু এই দুই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আতিকুর রহমান রুমন তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও এখনো দৈনিক দিনকাল পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে বহাল আছেন। পত্রিকাটির ‘প্রিন্টার্স লাইন’-এ প্রতিদিন তার নাম ছাপা হচ্ছে। যা সরাসরি সরকারি চাকরি বিধিমালার লঙ্ঘন। উল্লেখ্য, রুমন ইতিপূর্বে বগুড়া জেলায় পত্রিকাটির একজন সাধারণ আলোকচিত্রী (ফটোগ্রাফার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জাহিদুল ইসলাম রনি উপ-প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরও তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য পদ ছাড়েননি। অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি জোরপূর্বক এই পদটি দখল করেন এবং বর্তমানে সরকারি সুবিধা ভোগ করার পাশাপাশি ক্লাবের সুযোগ-সুবিধাও গ্রহণ করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেবল বিধি লঙ্ঘনই নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল সম্পদ অর্জনেরও অভিযোগ রয়েছে। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ নামক একটি সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে লুটপাট ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে তারা অঢেল অর্থ-সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে। সরকারের উচ্চপদস্থ এবং সংবেদনশীল একটি উইংয়ে এমন স্পষ্ট বিধি লঙ্ঘন করে নিয়োগ বহাল থাকায় প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যারা তথ্য ও জনমত নিয়ে কাজ করবেন, তাদের নিজেদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও পেশাদারিত্ব নিয়ে এমন বিতর্ক সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, > “নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট লেখা ছিল অন্য সকল কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। অথচ তারা সেটি না করেই দ্বৈত সুবিধা নিচ্ছেন। এটি ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়।”
এই বিষয়ে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জনমনে এখন বড় প্রশ্ন—আইন সবার জন্য সমান কি না, নাকি বিশেষ আশীর্বাদে তারা বিধির ঊর্ধ্বে থাকবেন?
