নিজস্ব প্রতিনিধি
বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনা একজন দূরদর্শী, মানবিক ও সাহসী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সংকটময় মুহূর্তে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম দেশকে বারবার বিপর্যয় থেকে উত্তরণে সহায়তা করেছে। করোনা মহামারি থেকে শুরু করে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, ঘূর্ণিঝড়-বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সব ক্ষেত্রেই তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্থিতিস্থাপকতার অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে।
২০২০ সালে বিশ্ব যখন কোভিড-১৯ মহামারিতে বিপর্যস্ত, তখন শেখ হাসিনা সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের সকল নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে টিকা প্রদানের ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি দরিদ্র দেশগুলোর জন্য টিকার সমান প্রাপ্যতা নিশ্চিতের আহ্বান জানান। সরকারের সক্রিয় উদ্যোগে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়, যা মৃত্যুহার কমানো এবং অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ পরিস্থিতিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা এবং সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে।
একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর মতো দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হয়, যা ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাপ্রবণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হাজার হাজার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, আগাম সতর্কবার্তা এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তোলার ফলে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পান-এর মতো দুর্যোগেও সীমিত প্রাণহানি তাঁর কার্যকর ব্যবস্থাপনারই প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যার কারণে ফসল ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা, ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হয়। শেখ হাসিনা নিজে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করেন, যা কৃষকদের মধ্যে আস্থা জাগায়।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্যাস, কয়লা, ডিজেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ে বহুমুখী বিদ্যুৎ উৎপাদন কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট-এ বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করে বাংলাদেশ। একইভাবে রানা প্লাজা ধস-এর পর দ্রুত উদ্ধার, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো হয়।
সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে যে সঠিক পরিকল্পনা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে যেকোনো সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
সংকটকে সুযোগে রূপান্তরের এই সক্ষমতাই তাঁকে দেশের একজন “চ্যাম্পিয়ন রাষ্ট্রনায়ক” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে যার অনুপ্রেরণা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে।
