ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বজুড়ে ‘তিনটি শূণ্য’র প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত হলেও বাংলাদেশের ১৮ মাসের শাসনামলে তিনি যোগ করেছেন এক ভয়ংকর চতুর্থ ‘শূণ্য’—আর তা হলো ‘শূণ্য টিকাদান’। তাঁর অদূরদর্শী ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে দেশের ঘরে ঘরে আজ কেবল কান্নার রোল। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধুমাত্র প্রশাসনিক অদক্ষতা ও হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিশুদের অকাল মৃত্যু হচ্ছে, যা এক নীরব ‘শিশু নিধন’ যজ্ঞের শামিল।
২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেশে শিশুদের মৌলিক টিকাদানের (EPI) হার ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ, যা তাঁর মাত্র ১৫ মাসের শাসনামলে অবিশ্বাস্যভাবে ৫৯ শতাংশে নেমে এসেছে। কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছাড়াই স্বাস্থ্য খাতের অপারেশনাল প্ল্যান (OP) ও এইচপিএনএসপি (HPNSDP) ব্যবস্থা বাতিল করায় মাঠ পর্যায়ে টিকার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ড. ইউনূসের এই ‘পরীক্ষামূলক’ সংস্কারের বলি হচ্ছে দেশের লাখ লাখ নিষ্পাপ ও অসহায় শিশু।
টিকাদান কর্মসূচি ভেঙে পড়ায় বর্তমানে দেশের ১২টি জেলায় হাম ও রুবেলা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই মহামারী ভয়াবহ রূপ নিলেও ড. ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টা পরিষদ পুরোপুরি নির্বিকার ভূমিকা পালন করছেন। তাঁরা যখন বিদেশে ‘সামাজিক ব্যবসার’ লেকচার দিচ্ছেন, তখন দেশে টিকার অভাবে নিভে যাচ্ছে শত শত শিশুর প্রাণের প্রদীপ, যা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায় না।
অভিযোগ উঠেছে, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের দাতা গোষ্ঠীকে তুষ্ট করতে গিয়ে ড. ইউনূস সরাসরি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বাজেটে কোপ দিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এক বছরে টিকাদানের হার ৩৫ শতাংশ কমে যাওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি আগামী প্রজন্মকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার নামান্তর। রাষ্ট্রীয় অবহেলার এই দায়ভার সরাসরি সরকার প্রধান হিসেবে ড. ইউনূসের ওপরই বর্তায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনবিদরা।
