বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালন করেও দুর্নীতির পাহাড় গড়েছেন সদ্যোবিদায়ি গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলকে তিনি নিজের পৈতৃক সম্পত্তির মতো ব্যবহার করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নীতিমালা উপেক্ষা করে স্বজনপ্রীতি ও তহবিল তছরুপের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছেন এই সাবেক গভর্নর।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গায় নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ‘খলিল-মালিক ফাউন্ডেশন’কে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই তিন কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন মনসুর। এছাড়া নিজের শৈশবের বিদ্যাপীঠ নীলফামারী উচ্চ বিদ্যালয়কে অনুদান দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ ভেঙেছেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি বিদ্যালয়ে সিএসআর ফান্ড দেওয়ার বিধান না থাকলেও কর্মকর্তার আপত্তি তোয়াক্কা করেননি তিনি।
সবচেয়ে বড় ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) দেখা গেছে টাঙ্গাইলের করটিয়ায়। সেখানে মনসুরের নিজস্ব বাগানবাড়ির সাথে সংশ্লিষ্ট ‘মার্থা-লিন্ডস্ট্রম নূরজাহান বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’কে মোটা অঙ্কের অনুদান দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খোদ আহসান এইচ মনসুর নিজেই। অর্থাৎ, নিজেই নিজের প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকের টাকা দান করেছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, বিএফআইইউ-এর ফ্রিজকৃত হিসাবের গোপনীয় তথ্য পাচারের মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্রের মাধ্যমে ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্ট সচল করে দেওয়ার নাম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো। এছাড়া সরকারি গাড়ি ক্রয়ের নীতিমালা ভেঙে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজকে পাশ কাটিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি কেনেন তিনি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র আড়ালে আহসান মনসুরের ১৮ মাসের শাসনামলে ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা চরম রূপ নেয়। যৌথ তদন্তের নামে শিল্পগোষ্ঠীগুলোকে হয়রানি করায় বিনিয়োগে স্থবিরতা নেমে আসে। সংস্কারের নামে ঢাকঢোল পেটালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি, উল্টো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ও তহবিল নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন এই বিতর্কিত গভর্নর
