নিজস্ব প্রতিনিধি
ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার পর জাতীয় সংসদে প্রতিবেদন পেশ করেছে বিশেষ কমিটি। এতে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু অনুমোদনের সুপারিশ করা হলেও, গুম প্রতিরোধ ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি অধ্যাদেশ আইনি সময়সীমার গ্যাঁড়াকলে পড়ে বাতিল বা ‘ল্যাপস’ হওয়ার পথে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন এই সুপারিশ ও প্রতিবেদনটি উত্থাপন করেন।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ বহাল না থাকাকালীন কোনো অধ্যাদেশ জারি করা হলে সংসদের পরবর্তী প্রথম বৈঠকেই তা উত্থাপন করতে হয়। সংসদ বসার ৩০ দিনের মধ্যে তা অনুমোদিত না হলে অধ্যাদেশটির কার্যকারিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়।
বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী. আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে এই ১৬টি অধ্যাদেশ অনুমোদিত না হলে সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে।
কমিটি এসব অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে পেশ না করে ভবিষ্যতে আরও যাচাই-বাছাই ও শক্তিশালী করে নতুনভাবে আনার পরামর্শ দিয়েছে।
বাতিল হতে যাওয়া ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে স্পর্শকাতর ও জাতীয় নীতিনির্ধারণী বেশ কিছু বিষয় যেমন,
মানবাধিকার ও গুম: গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া: গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।
আর্থিক ও রাজস্ব: দুর্নীতি দমন কমিশন, মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংক, কাস্টমস, ভ্যাট, আয়কর এবং রাজস্ব নীতি সংক্রান্ত আইন।
অন্যান্য: তথ্য অধিকার এবং বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।
অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কমিটির ভেতরেই মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও গাজী নজরুল ইসলাম ১২টি অধ্যাদেশের বিপক্ষে তাঁদের ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন।
তাঁদের আপত্তির মূল জায়গা ছিল স্থানীয় সরকার সংশোধন অধ্যাদেশ। তাঁরা দাবি করেন, “নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের ‘কুদরত-ই-ইলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ’ মামলার রায়ের পরিপন্থী।”
গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তিনটি টানা বৈঠকের মাধ্যমে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষ করে কমিটি। তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো ‘ল্যাপস’ হয়ে গেলে একটি বড় ধরনের আইনি শূন্যতা তৈরি হতে পারে। এটি সরকারের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।
সংসদ এখন ১২ এপ্রিলের চূড়ান্ত সময়সীমার দিকে তাকিয়ে, যেখানে নির্ধারিত হবে এই আইনগুলোর ভবিষ্যৎ। তবে, একদম আলোচনায় না থাকা আওয়ামী লীগের উপর স্থগিত আদেশ নিয়ে জামায়াত বিএনপির মধ্যে সম্পর্কের টানাটানি পড়েছে। বিএনপির সরকার এই সিদ্ধান্ত ঠেলে দিতে পারেন আদালত পর্যন্ত। যেখানে একটা নির্দিষ্ট সময় আইনি লড়াই চলার পর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আ’লীগের রাজনীতির স্থগিত আদেশের বিষয়ে। আপাতত পরিস্থিতি বলছে ছাত্রলীগের উপর থাকা নিষেধ একদম উঠছে না। কারণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান এই টলমটল পরিস্থিতিতে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল আ’লীগ দেশের মানুষেকে সাথে নিয়ে মোকাবেলা করবে সেটাই এখন জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের অন্তরে ভয়।
