নিজস্ব প্রতিনিধি
সংসদে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে কদাকার ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার একটি ভিডিও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে বিচার দাবি করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
সম্প্রতি আমির হামজার একটি দেড় ঘণ্টার ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তাকে নারী সংসদ সদস্যদের শরীর নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে শোনা যায়। ভিডিওতে তিনি রুমিন ফারহানা এবং অন্যান্য নারী সহকর্মীদের নাম উল্লেখ করে বলেন
“আমার ডানে-বামে এমন ভুঁড়িওয়ালা লোক পেয়েছি… আমার মনে হয় ভুঁড়ি ছিঁড়লে ভেতর থেকে ব্রিজ-কালভার্ট বের হবে। মহিলারা ওদের দেখলে লজ্জা পাবে।”
এমন মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কেবল নারী সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত আক্রমণই করেননি, বরং প্রকাশ্য জনসভায় ‘বডি শেমিং’ বা শারীরিক গঠন নিয়ে বিদ্রূপ করে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও অভিনেত্রী রাশমিকাকে নিয়ে তার বিতর্কিত মন্তব্য ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল।
রোববার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রুমিন ফারহানা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন,
“এই সংসদে উপস্থিত আমি এবং আমার আরও দুজন নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে এই সংসদে উপস্থিত আরেকজন সংসদ সদস্য যে কদাকার, কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দিয়েছেন; আমি আপনার কাছে এই ব্যাপারে বিচার চাইছি।”
জবাবে স্পিকার সংবাদপত্রের রিপোর্টিংয়ের ভিত্তিতে পয়েন্ট অব অর্ডার না হওয়ার আইনি ব্যাখ্যা দিলেও, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সমালোচকরা বলছেন, মুফতি আমির হামজা একজন ‘বহুরূপী’ ব্যক্তিত্ব। আওয়ামী লীগের শাসন আমলে নিজের বংশকে আওয়ামী লীগ দাবি করে গলা ফাটালেও এখন জামায়াতের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে উগ্র ও নারীবিদ্বেষী বক্তব্য দিচ্ছেন। জামায়াত ইসলামীর আমীর নির্বাচনের আগে নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, যা মূলত নারীদের ঘরের কোণে বন্দি করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন প্রগতিশীল সমাজ।
রাজনৈতিক গবেষকরা বলছেন, জামায়াত ও তাদের তাত্ত্বিক নেতারা নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রগতিশীলতার বিরোধী। দক্ষ ও যোগ্য নারী রাজনীতিবিদদের মেধার লড়াইয়ে হারাতে না পেরে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও শারীরিক গঠন নিয়ে কথা বলা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে নিজেদের আদর্শ বদলে ফেলা আমির হামজাদের মতো ব্যক্তিদের প্রকৃত চরিত্র আজ জাতির সামনে স্পষ্ট।
একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মুখ থেকে নারী সহকর্মীদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও নারীর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। এই ঘটনায় আমির হামজার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং দলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
