২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ইউনুস প্রশাসনের জারি করা একটি প্রজ্ঞাপন ঘিরে বর্তমানে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের প্রশাসনিক ও সচেতন মহল।
বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ৪০তম ব্যাচের বেশ কয়েকজন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা কারণ দর্শানো ছাড়াই ‘ধারা ৬(২)(এ)’ প্রয়োগ করে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে তা হলো—এটি কি নিছক প্রশাসনিক কোনো সংস্কার, নাকি বেছে বেছে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত কৌশল?
অপসারিতদের তালিকায় থাকা সজিব দেবের মতো কর্মকর্তাদের অতীত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রকাশ্য অভিযোগ কিংবা কোনো রাজনৈতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ইতিহাস নেই। তবুও কেন অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে তাঁকে এবং তাঁর মতো আরও বেশ কয়েকজনকে বাদ দেওয়া হলো, সেই মানদণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ড. ইউনুসের নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রশাসন বারবার ‘সংস্কার’ ও ‘ন্যায়বিচার’-এর বুলি আওড়ালেও বাস্তবের সিদ্ধান্তগুলো হয়ে উঠছে চরম অস্বচ্ছ ও প্রশ্নবিদ্ধ।
বিশেষ করে এই অপসারণ প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তাদের আধিক্য দেখে অনেকেই একে ‘টার্গেটেড ক্লিনআপ’ বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে চালানো শুদ্ধি অভিযান হিসেবে অভিহিত করছেন।
অভিযোগ উঠেছে যে, ইউনুসের তথাকথিত জামাতি প্রভাবাধীন শাসনকালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা এমন ব্যাখ্যাহীন সিদ্ধান্তের শিকার হচ্ছেন। যদি তাঁদের কোনো অপরাধ থেকে থাকে, তবে কেন সেই প্রমাণ জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে না এই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনিক সংস্কারের নামে এমন একপাক্ষিক ও অস্বচ্ছ সিদ্ধান্ত মূলত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার। রাষ্ট্র পরিচালনা মানে কেবল ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
আজ হোক কিংবা কাল, এই ব্যাখ্যাহীন অপসারণের দায়ভার ড. ইউনুস ও তাঁর প্রশাসনকেই বহন করতে হবে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রতিটি অন্যায্য সিদ্ধান্তের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে এবং দখলদারিত্বের মানসিকতা নিয়ে চালানো এসব অপকর্মের ফলভোগ করতে হবে সংশ্লিষ্টদের—এমনটাই দাবি করছেন সংক্ষুব্ধ দেশপ্রেমিক নাগরিকরা।
