২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি—এই ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছিলেন সর্বেসর্বা। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই সময়ে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের গ্রামীণ ট্রাস্ট ও গ্রামীণ ব্যাংককে অনৈতিক সব সুবিধা দিয়েছেন, যা শুধু নৈতিকতা নয়, বরং সাংবিধানিক শপথেরও পরিপন্থী।
পাঁচ কোটির আইন তুচ্ছ করে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন
দেশে ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন বছরের পর বছর ঝুলে থাকলেও ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার মাত্র ৩ মাসের মাথায় তাঁর নিজস্ব ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ অনুমোদন পায়। বিস্ময়কর তথ্য হলো, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫ কোটি টাকা সংরক্ষিত তহবিল থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়কে মাত্র দেড় কোটি টাকার শর্তে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন।
রাজস্বে বড় থাবা: এক হাজার কোটির কর মওকুফ
২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর এক গেজেটের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ৫ বছরের জন্য সম্পূর্ণ আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হবে। যেখানে আইএমএফের শর্ত ছিল কর অব্যাহতি কমানো, সেখানে ড. ইউনূস নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য এই বিশাল সুবিধা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্টের ১,০৪৩ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ এবং ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফের সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সাত মামলা থেকে মুক্তি ও লাইসেন্স বাণিজ্য
ক্ষমতার চেয়ারে বসেই ড. ইউনূস নিজের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন ও দুদকের অর্থ আত্মসাতের মামলাসহ অন্তত সাতটি মামলা থেকে নিজেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। পাশাপাশি ১৬ বছর ধরে ঝুলে থাকা ‘গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড’-এর জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স এবং ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’-এর ই-ওয়ালেট লাইসেন্স অস্বাভাবিক দ্রুততায় অনুমোদন করিয়ে নিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে ‘শপথ ভঙ্গ’ ও ‘প্রতারণা’
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, “ড. ইউনূস ব্যক্তিগত স্বার্থে এই পদকে ব্যবহার করেছেন, যা ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ এবং শপথ ভঙ্গের শামিল। তিনি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।” অন্যদিকে ড. শাহদীন মালিক জানান, সংবিধানের ১৪৭ ধারা অনুযায়ী সাংবিধানিক পদে থেকে লাভজনক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, যা ড. ইউনূস লঙ্ঘন করেছেন।
দেশের ‘শনির দশা’ বনাম ব্যক্তিগত উন্নতি
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দেড় বছরে সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ। মব সন্ত্রাস, রাজনৈতিক সহিংসতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বিনিয়োগ স্থবিরতায় দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে পড়েছিল। বেকারত্ব ও কারখানা বন্ধ হওয়ার মিছিলে দেশ যখন দিশেহারা, তখন ড. ইউনূস ব্যস্ত ছিলেন নিজের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও কর মওকুফ নিয়ে।
পরিশেষে, অনুসন্ধানে এটিই প্রতীয়মান হয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের এই সময়টি দেশের স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়েছে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য।
