বাংলাদেশে ৫ আগস্ট ও এর পরবর্তী সময়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যার ঘটনায় বিচার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন দেশের দেশপ্রেমিক নাগরিকরা।
এই সহিংসতায় প্রাণ হারানো পুলিশ সদস্যদের পরিবারের আহাজারি এবং অপরাধীদের বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে জনমনে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একযোগে এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন।
বক্তারা সাফ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র, যেখানে কোনো যুদ্ধাবস্থা নেই। তাই দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘হানাদার বাহিনী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা কেবল অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, বরং চরম বিভ্রান্তিকর।
তাঁরা মনে করেন, পুলিশ বাহিনী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করে। তাঁদের এভাবে টার্গেট করা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র।
অনলাইনেও এই দাবির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ফেসবুক ও এক্স (টুইটার)-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে #পুলিশহত্যারবিচারচাই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষ তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
নেটিজেনরা বলছেন, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দিয়ে হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে এই খুনের বিচার হওয়া জরুরি।
আইনের শাসন বজায় রাখতে হলে সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা সরকার দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে, যাতে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের রক্ষকদের ওপর এমন হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
