এ বছর ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচল ও টোল আদায়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। উৎসবের আমেজে যাতায়াতকারী দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের চাপে ১২ দিনে প্রায় ৪১ কোটি টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কোনো ধরনের যানজট ছাড়াই নির্বিঘ্নে এই বিশাল সংখ্যক যানবাহন পারাপার সম্ভব হয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটিতে ১২ দিনে মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯২টি যানবাহন এই সেতু পাড়ি দিয়েছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৪১ কোটি টাকা।
ঈদুল ফিতরের সরকারি ৭ দিনের ছুটিসহ মোট ১১ দিনের (১৮–২৮ মার্চ) হিসেবে দেখা যায়, পদ্মা সেতু দিয়ে ৩৪ লাখ ১ হাজার ৫০৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই সময়ে মোট টোল আদায় হয়েছে ৩৬ কোটি ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৪৫০ টাকা। এর মধ্যে ১৮ মার্চ ছিল যানবাহনের সর্বোচ্চ চাপ; এদিন ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন পারাপার করে এবং এক দিনেই ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা টোল আদায় হয়। গত বছরের তুলনায় এবার যানবাহন চলাচল এবং টোল আদায় উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
ঈদযাত্রার শুরুতেই অর্থাৎ ১৭ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২টি যানবাহন সেতু পার হয়, যেখান থেকে টোল আসে ১৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। সেতুর দুই প্রান্ত মাওয়া ও জাজিরা টোল প্লাজায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (RFID) এবং ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) ব্যবস্থা চালু থাকায় আগের মতো দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। স্বয়ংক্রিয় এই ব্যবস্থার কারণে যানবাহন থামানো ছাড়াই দ্রুত টোল আদায় সম্ভব হয়েছে।
পদ্মা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় জানান, ইটিসি ব্যবস্থার ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। চালকরা যত বেশি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন, ভবিষ্যতে সেতু পারাপার তত বেশি নির্বিঘ্ন হবে। রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে এই ঈদযাত্রা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
