ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে দেশটির গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা। দীর্ঘ দুই মাসের রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যুক্ত একটি সক্রিয় চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক। দিল্লি, কলকাতা এবং তামিলনাড়ুসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে একযোগে অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য পায় ভারতীয় পুলিশ। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নাটকীয় অভিযানে ‘মাস্টারমাইন্ড’ গ্রেপ্তার এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে শাব্বির আহমেদ লোনকে। ২০০৭ সালে কাশ্মীরে একে-৪৭ রাইফেল ও গ্রেনেডসহ গ্রেপ্তার হওয়া এই দুর্ধর্ষ জঙ্গি কারামুক্তির পর বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকেই সে নতুন করে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে এবং নেপাল সীমান্ত দিয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে কার্যক্রম শুরু করে।
সুসংগঠিত জাল এই অপারেশনটি চালানো হয়েছে ভারতের একাধিক কৌশলগত পয়েন্টে। বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা ছাড়াও কলকাতা, দিল্লি ও তামিলনাড়ুতে অভিযান চালিয়ে চক্রটিকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশিরা বগুড়া, ঝালকাঠি ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন— মিজানুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ উজ্জ্বল, উমর ফারুক, শাফায়েত হোসাইন এবং রবিউল ইসলাম।
উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির ব্যবহার অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন, ২৫টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং ৫টি পয়েন্ট অব সেল (POS) মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তাদের কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও উসকানিমূলক পোস্টার পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই কার্ড ও মেশিনগুলো ব্যবহার করে তারা অত্যন্ত গোপনে আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেন ও কার্যক্রম পরিচালনা করত।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই চক্রটি ভারতের বড় কোনো স্থাপনা বা জনাকীর্ণ স্থানে আত্মঘাতী হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। সময়মতো এই অভিযান সফল না হলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারত। বর্তমানে এই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং বাংলাদেশের ভেতরে তাদের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখতে বিস্তৃত তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
