সারা দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের মৎস্যখাতে। পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না জেলেরা। ফলে চট্টগ্রাম নগরের ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে সারি সারি ট্রলার নোঙর করে রাখা হয়েছে। এক সময়ের কর্মব্যস্ত এই ঘাট এখন যেন নিস্তব্ধতার এক বিষণ্ন চিত্র।
নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, শত শত জেলে অলস সময় পার করছেন। কেউ ক্লান্ত চোখে নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন, কেউবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প করছেন। আবার কেউ এই অবসর সময়ে জাল মেরামতের চেষ্টা করছেন, কিন্তু অনিশ্চয়তার কালো মেঘে তাদের মনে শান্তি নেই। জেলেরা জানান, প্রতিদিন সমুদ্রে যেতে না পারার অর্থ হচ্ছে সরাসরি আয় বন্ধ হওয়া এবং ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পাওয়া।
স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি মাঝারি মানের ট্রলার প্রতিদিন সমুদ্রে গেলে গড়ে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মাছ আহরণ করা সম্ভব। কিন্তু তেলের অভাবে সেই আয়ের পথ এখন সম্পূর্ণ রুদ্ধ। শুধু ফিরিঙ্গিবাজার এলাকাতেই শতাধিক ট্রলার অচল পড়ে থাকায় প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। ট্রলার মালিকদের অভিযোগ, বাজারে ডিজেলের সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় কালোবাজারে দাম বেড়েছে কয়েকগুণ, আর যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে নিয়মিত ট্রলার চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
একজন জেলে আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা সাগরে যেতে পারলে পরিবার চলে। এখন তেলের অভাবে ঘাটে বসে আছি, আয় পুরো শূন্য। ঘরে খাবার নেই, ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।”
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু জেলে পরিবারগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক মাছ সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। ফলে সাধারণ বাজারে মাছের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে এই সংকট উপকূলীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে পারে।
