জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
এই উদ্যোগকে তিনি “অন্তহীন প্রতারণা” হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন যে, এর মাধ্যমে একটি বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা চলছে। গত মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত এই সনদ ও অধ্যাদেশ নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংবিধানিক কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ মূলত সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল।
তাঁর মতে, জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশের আড়ালে একটি অবৈধ কাঠামোকে আইনি বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটবে না। বরং এটি একটি সাজানো প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত কিছু সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার নীল নকশা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে জনস্বার্থের চেয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বেশি কাজ করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে সরকারের ভেতরে ও বাইরে যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
একদিকে কিছু মহল একে সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখলেও, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতো অনেকেই একে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে মনে করছেন। এই ইস্যুটির ভবিষ্যৎ পরিণতি এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।
