প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ব্যবসায়ীর মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে বরিশাল বানারীপাড়া পৌরসভা ছাত্রদলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে চাঁদাবাজি মামলায় অভিযুক্ত এই যুবককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নগরীর গির্জা মহল্লা এলাকার জনপ্রিয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মিরাজ টেলিকম’-এর মালিক মিরাজের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন সাব্বির। কেবল মৌখিক দাবিতেই ক্ষান্ত হননি তিনি; ভয় দেখাতে হোয়াটসঅ্যাপে একটি পিস্তল ও বেশ কিছু গুলির ছবি পাঠিয়ে মিরাজকে বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেন। প্রাণনাশের শঙ্কায় ব্যবসায়ী মিরাজ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর শুক্রবার (২৭ মার্চ) গভীর রাতে এক ঝটিকা অভিযানে বরিশাল মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ সাব্বিরকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানতে পারে, ভয় দেখানোর জন্য সাব্বির যে অস্ত্রের ছবি পাঠিয়েছিলেন, সেগুলো আসলে ছিল খেলনা সদৃশ পিস্তল এবং তিনটি কার্তুজ। পুলিশ এই খেলনা পিস্তল ও কার্তুজগুলো আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে সাধারণ ব্যবসায়ীদের হেনস্তা করার বিষয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দ্রুততম সময়ে অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি ফিরলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
