জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা চারটি পৃথক মামলায় আওয়ামী লীগের ১৯ জন নেতা-কর্মী আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে মাদারগঞ্জ আমলি আদালতে আসামিরা উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক রোমানা আক্তার আবেদন খারিজ করে তাঁদের সবাইকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান বেলাল, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য দৌলতুজ্জামান দুলাল হাজী এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন আয়না। এছাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম হযরত আলী হিলারি, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম এবং শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শিবলুল পাশা সিয়ামকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, বিশেষ ক্ষমতা আইনের চারটি ভিন্ন ভিন্ন মামলায় এই ১৯ জন আসামি একসঙ্গে আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। তিনি বলেন, “আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন চেয়েছিলেন, কিন্তু আদালত তা মঞ্জুর না করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।”
অন্যান্য আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, তোফায়েল আহমেদ বাহাদুর, রনি মেম্বার, শাহীনুর, ছলো মিয়া, আব্দুল হামিদ মেম্বার, ওবায়দুর রহমান পাক্কি, রাশেদ হাসান লাজু, রুবেল, সালমান, এসডি রুবেল ও আবু হক। মাদারগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ১৯ জন নেতার এই গণআত্মসমর্পণ ও কারাবরণের ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
