জামালপুরে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই শিশুসহ ছয়জন নারী ও শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা জেলাজুড়ে স্তম্ভিত ও শোকাতুর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। গত শনিবার বিকেল থেকে রোববার বিকেলের মধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এই পৃথক লোমহর্ষক ঘটনাগুলো ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইসলামপুর উপজেলায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকন্যা এবং ২৯ বছর বয়সী এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। মাদারগঞ্জ উপজেলায় একজন প্রতিবন্ধী শিশু এবং থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত এক শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মেলান্দহ উপজেলায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং সদর উপজেলায় ২১ ও ৪০ বছর বয়সী দুই নারী এই পৈশাচিকতার শিকার হয়েছেন।
জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিশু ও নারীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের অবস্থা অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
জামালপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার আলাদা আলাদা তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এদিকে, একই দিনে এতগুলো ধর্ষণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সচেতন মহলে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মানবাধিকারকর্মীরা অবিলম্বে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এই ধরনের অপরাধ রোধ করা সম্ভব নয়।
