সারা দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে শিশুদের মৃত্যুমিছিল দীর্ঘতর হওয়ায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গত দুই দশকে দেশের সফল টিকাদান কর্মসূচি (EPI) কেন এক বছরের ব্যবধানে ভেঙে পড়ল, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই অবহেলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।
সরকারি ও ইপিআই-এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে হাম-রুবেলা (MR) টিকার কভারেজ ছিল অত্যন্ত ঈর্ষণীয়—প্রায় ৮৬% থেকে ১০০% এর উপরে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই চিত্র বদলে যায়। ২০২৫ সালে এমআর টিকার প্রশাসনিক কভারেজ নাটকীয়ভাবে কমে মাত্র ৫৯.৬% এ নেমে আসে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই টিকাদানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়।
অভিযোগ উঠেছে, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পূর্ববর্তী সরকারের ‘৫ম সেক্টর প্রোগ্রাম’ থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা করে। এই খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের কারণে নতুন করে টিকা কেনা এবং আমদানির প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে। ফলে ২০২৫ সালে দেশজুড়ে ইপিআই টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়। গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ও ইউনূসের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নূরজাহান বেগম স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকাকালীন এই প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে ব্যর্থ হন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হামে আক্রান্ত হয়ে সন্তান হারানো শত শত অভিভাবক এবং জনস্বাস্থ্য কর্মীরা বলছেন, এটি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’। গ্রামীণ পরিবারের সদস্যদের দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পরিচালনার মাশুল আজ শিশুদের জীবন দিয়ে দিতে হচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই ইস্যুটি এখন প্রধান আলোচনার বিষয়। বিরোধী দলগুলোর নেতারা বলছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত ড. ইউনূস দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যে চরম অদক্ষতা দেখিয়েছেন, তার বিচার হওয়া সময়ের দাবি।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। তারা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতের মতো সংবেদনশীল জায়গায় অদক্ষ ও দলীয় অনুগত লোক বসানোর ফলেই আজ এই মানবিক বিপর্যয়।
