জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে সারা দেশের সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা, তখন সরকারের পক্ষ থেকে আসা আশ্বাসের বাণীগুলো কেবল উপহাস হিসেবেই দেখা দিচ্ছে। রাজপথে দীর্ঘ লাইন আর পাম্পে পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড এখন নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে নীলফামারী জেলায় জ্বালানি তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে এক যুবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা এই সংকটের এক ভয়ংকর মানবিক প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে। কয়েক দিন আগেই ক্ষমতাসীন মহলের পক্ষ থেকে ঘটা করে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
কিন্তু সেই মজুদ আসলে কোথায় এবং কেন সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছে না, তার কোনো সদুত্তর মিলছে না প্রশাসনের কাছ থেকে। সরকারের এই ঘোষণা বনাম মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে বিশ্লেষকরা প্রশাসনিক চরম ব্যর্থতা ও সঠিক পরিকল্পনার অভাব হিসেবেই দেখছেন।
জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব কেবল পরিবহনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পখাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নীলফামারীর মতো কৃষিপ্রধান অঞ্চলে সেচ ও পরিবহনের জন্য ডিজেলের হাহাকার কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
যখন মন্ত্রীরা গণমাধ্যমে সংকটের কথা অস্বীকার করেন, তখন সেটি জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করে। অর্থনীতির ভাষায় সরবরাহ ও চাহিদার এই বিশাল ব্যবধান মূলত বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আমদানি ব্যয়ের অব্যবস্থাপনারই ফসল।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ব্যর্থতাকে বর্তমান সরকারের সক্ষমতার অভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরোধীরা একে ‘পুতুল সরকারের’ অদক্ষতা হিসেবে আখ্যা দিলেও, সাধারণ মানুষের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কবে শেষ হবে এই তেলের লাইনে দাঁড়ানোর যন্ত্রণা। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাকা স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
