মোহাম্মদ আরাফাত
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে জুলাই আদেশের মাধ্যমে। প্রশ্ন হচ্ছে, কে দিয়েছে এই আদেশ? রাষ্ট্রপতি দিয়েছেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো আদেশ দেওয়ার এখতিয়ারই রাষ্ট্রপতির নেই। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে এটি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার বাইরে। পরে তারা জারি করে “গণভোট” অধ্যাদেশ। দুটোই করা হয়েছে অবৈধভাবে, গায়ের জোরে। জোর যার, মুল্লুক তার। গায়ের জোরে আইন ও সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যা ইচ্ছা, তাই করেছে।
গণভোট যেটি হয়েছে, সেখানেও কারচুপির আশ্রয় নিয়ে ৬০ শতাংশ ভোটে “হ্যাঁ”-কে জিতানো হয়েছে। কাজেই কারচুপির গণভোটের ফলাফল নিয়ে “জনগণের রায়” ইত্যাদি অজুহাত দেখানোর কিছু নেই। আবার, বিএনপির অধীনে গণভোট করুন, আমি নিশ্চিত করে বলে দিচ্ছি দেখবেন এবার ফলাফল দেখানো হবে “না” জয়যুক্ত হয়েছে।
আমরা সবাই জানি, সাম্রাজ্যবাদের দালাল, বিদেশি নাগরিক আলী রিয়াজের নেতৃত্বে যে তথাকথিত ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়েছিল, তা ছিল একটি প্রহসন। সেখানে দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্ব ছিল না। এছাড়াও, জনগণের একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব অবৈধভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং তাদেরকে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণসহ নির্বাচনেই অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
এনসিপির আহ্বায়ক, যাকে বর্তমানে সংসদে বিরোধী দলের প্রধান হুইপ বানানো হয়েছে, এবং এনসিপির অন্যান্য সদস্যরা প্রকৃতপক্ষে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি; বরং কারচুপির মাধ্যমে তাদের সংসদে নিয়ে আসা হয়েছে।
কাজেই জনগণের রায় এখানে খুবই গৌণ। “জনগণের রায়” বিষয়টি এদের কাছে শুধু রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়; জনগণের রায়ের প্রতি এদের কারো কোনো প্রকৃত শ্রদ্ধা নেই। এরা শুধু মানুষের ভোটের অধিকার, ভোটের রায় ইত্যাদি নিয়ে লেকচার দেয়, কিন্তু কেউই জনগণের আসল রায় কি তা নিয়ে মাথা ঘামায় না।
এরা সবাই জনগণের রায়ের অজুহাত তুলে মূলত নিজের মতামতই জনগণের ঘাড়ে জোর করে চাপাতে চায়। এদের চেয়ে বড় ফ্যাসিস্ট আর কেউ নেই।
