অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বহুল আলোচিত ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ আর আইনে পরিণত হচ্ছে না। সরকারি দল বিএনপি জানিয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই অধ্যাদেশের অধীনে গণভোট সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এর আর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। তাই এটি সংসদে উত্থাপন করা হবে না। তবে বিএনপির এই অবস্থানের সঙ্গে একমত হতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী। তারা এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্নমত পোষণ করেছে।
রোববার রাতে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির তৃতীয় দিনের বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গণভোটের অধ্যাদেশটি একটি নির্দিষ্ট প্রয়োজনে জারি করা হয়েছিল এবং সেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই এটিকে স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি দাবি করেন, অধ্যাদেশটি বাতিল হলেও ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের বৈধতা নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হবে না।
বিরোধীদের কঠোর অবস্থান এদিকে বৈঠকের পর জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, সরকারি দল কেবল গণভোট নয়, বরং মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সংশোধন বা বাতিলের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “সরকারি দল সংখ্যার জোরে সংস্কারমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও দলীয়করণ করতে চাইছে। গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য আনা সংস্কারগুলো রহিত করে তারা আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়।”
গণভোটের বিষয়ে জামায়াতের যুক্তি হলো, যদি এই অধ্যাদেশটি বাতিল করা হয় তবে একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তারা জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায়কে কার্যকর রাখার দাবি জানিয়েছে।
অধ্যাদেশ পাসের সময়সীমা সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদিত হতে হবে। সেই হিসেবে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাস না হলে সেগুলো অকার্যকর হয়ে যাবে। বিশেষ কমিটি আগামী ২ এপ্রিল তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংসদে জমা দেবে।
