নিজস্ব প্রতিনিধি
সারাদেশে জ্বালানি তেল নিয়ে এক চরম অরাজকতা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। একদিকে নীলফামারীতে শ্রমিকদের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। অন্যদিকে তেলের জন্য বাগবিতণ্ডার জেরে নড়াইলে ট্রাকচাপা দিয়ে এক ফিলিং স্টেশন ম্যানেজারকে হত্যার নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এমনকি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নিজের জেলা যশোরেও তেল না পেয়ে সাধারণ মানুষকে মোটরসাইকেল ভ্যানে করে বাড়ি নিয়ে যেতে দেখা গেছে। যে ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়।
নীলফামারীতে একটি ট্যাংকলরি থেকে মাত্র ১৩ লিটার পেট্রোল উদ্ধারের ঘটনায় তিন শ্রমিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ও উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন। দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর কার্যক্রম সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ায় উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
শ্রমিকদের দাবি, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গাড়ি থামানো হলেও কোনো বাছবিচার ছাড়াই তাদের ওপর ‘অবিচার’ করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই সংকট কেবল ধর্মঘটেই সীমাবদ্ধ নেই, রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর এলাকায় তেল না পেয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে ট্রাকচাপা দিয়ে পিষ্ট করা হয়েছে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ম্যানেজার নাহিদ সরদারকে (৩৩)। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে ঘটা এই নৃশংস ঘটনায় নাহিদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন । ওই পাম্পের অপর এক কর্মচারী জিহাদ মোল্যা বর্তমানে ঢাকার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
সামান্য জ্বালানি তেলের জন্য এমন প্রাণহানি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সরবরাহ ব্যবস্থার চরম নাজুক অবস্থাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
সবচেয়ে নাটকীয় এবং হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নিজের জেলা যশোরে। রোববার দুপুরে যশোর শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে তেল না পেয়ে শেষে নিরুপায় হয়ে ৫০০ টাকা খরচ করে নিজের মোটরসাইকেল ভ্যানে করে বাড়িতে ফেরত নিয়ে গেছেন এক চালক। এই দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়। নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন “যেখানে খোদ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর নিজের জেলাতেই তেলের জন্য মানুষকে ভ্যান ভাড়া করতে হয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আর অধিকারের কথা ভাবাই বিলাসিতা।”
জ্বালানি খাতের এই সমন্বয়হীনতা এবং দফায় দফায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সাধারণ মানুষকে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট দেশজুড়ে আরও ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
