নাসরীন সুলতানা, সহযোগী অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
আমার সন্দেহ আছে বিএনপির নেতাকর্মীগণ সাবেক প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমানের “একটি জাতির জন্ম” পড়েছেন কিনা। আমি পুরো প্রবন্ধটি মনোযোগ সহকারে পড়েছি। তিনি তার কৈশোরের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেছেন। লেখার প্রতিটি লাইনে পাকিস্তান বিদ্বেষ স্পষ্টত প্রতীয়মান।
সেখানে স্পষ্টভাবে লেখা আছে “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সারা দেশে শুরু হলো ব্যাপক অসহযোগ আন্দোলন।”
এই প্রবন্ধ পড়ার পর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি আমার রেসপেক্ট বেড়েছে। তিনি মনেপ্রাণে পাকিস্তান ঘৃণা করতেন। আওয়ামী লীগ তাঁকে পাকিস্তানের দোসর আখ্যা দিয়ে ঠিক কাজ করেনি। এটা আওয়ামী লীগের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। আফটার অল, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে। সুতরাং, সকল মুক্তিযোদ্ধা দেশের জন্য অবিস্মরণীয় এবং কন্ট্রিবিউশান অনুযায়ী মর্যাদার দাবীদার।
একইসাথে এটাও বলতে বাধ্য হচ্ছি, বিএনপি জিয়াউর রহমানকে ধারণ করে না। নয়তো, জিয়াউর রহমান নিজে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা এবং বঙ্গবন্ধু দুটো উপাধিতে সম্বোধন করার পরও বিএনপির উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমান বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা স্বীকার করতে রাজী নন বলে টকশোতে গলা ফাটান।
জিয়াউর রহমান যেভাবে পাকিস্তানের বর্ণনা দিয়েছেন তাতে করে বিএনপির কোনদিন জামায়াতের সাথে জোট করার কথা না। যে জামায়েত পাকিস্তান প্রেমে হাবুডুবু খায় সেই জামায়েতের সাথে বিএনপি এত বছর নির্ভেজাল এক পার্টনারশিপে কীভাবে আছে আমার মাথায় আসে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবী করেছেন জিয়াউর রহমান provisional head of the state হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছেন। ক্ষমতায় থাকলেই এমন ন্যারেটিভ দাঁড় করাতে হবে? এতে কি মর্যাদা বাড়ে?
কর্নেল অলী আহমেদ “উই রিভোল্ট” বক্তব্যের সাথে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রজমানের বক্তব্যের মিল নেই। জিয়াউর রহমানের ভাষ্যে এই কথা বলার সময় সেখানে কর্ণেল অলীর শারিরীক উপস্থিতি বোঝা যায়নি। অথবা আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি হয়তো।
আমি প্রবন্ধের কয়েকটি ভার্সন পড়েছি। কারণ কনফার্ম হতে চাচ্ছিলাম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা অংশ আওয়ামী লীগ আমলে এডিট করা হয়েছে কিনা। অনেকগুলো ভার্সন ঘাটার পর জানতে পারলাম বিএনপি বরং এই প্রবন্ধ থেকে বঙ্গবন্ধুর অংশটি কেটে বাদ দিয়েছে।
এই দেশে ভালো রাজনীতি আদৌ সম্ভব?