নিজস্ব প্রতিনিধি
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় শুরু হওয়া তিন জন হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির রাষ্ট্রদূত নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে স্থগিত করেছে বর্তমান নির্বাচিত সরকার। সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লামিয়া মোর্শেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং সাবেক সচিব সেলিম উদ্দিনের নাম এই তালিকায় রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ড. ইউনূসের দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং এসডিজি-বিষয়ক সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদকে নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিতে গত বছরের নভেম্বরে তোড়জোড় শুরু করেছিল গত সরকার।
লামিয়া মোর্শেদের আগ্রহের প্রেক্ষিতেই তাকে ইউরোপের এই গুরুত্বপূর্ণ দেশে পাঠানোর প্রস্তাব (এগ্রিমো) পাঠানো হয়েছিল। তবে নেদারল্যান্ডস সরকারের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাবের কোনো ইতিবাচক সাড়া (গ্রিন সিগনাল) শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত পায়নি ইউনূস প্রশাসন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রস্তাবটি বাতিল করে থাইল্যান্ডে নিযুক্ত পেশাদার কূটনীতিক ফাইয়াজ মুর্শিদ কাজীকে নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ইতোমধ্যে ডাচ সরকারের পক্ষ থেকে এগ্রিমোর ইতিবাচক জবাব পেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আগামী মে-জুনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনের পর তিনি হেগে যোগদান করবেন।
ঢাবির সদ্য সাবেক ভিসি ড. নিয়াজ আহমেদ খানকে শুরুতে ডেনমার্কে পাঠানোর প্রস্তাব করা হলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় তাকে ইরানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ইরান সরকার এই নিয়োগে সম্মতি (সবুজ সংকেত) দিলেও ড. নিয়াজ ইরান যেতে আগ্রহী ছিলেন না বলে জানা গেছে।
সূত্রমতে, নিয়োগ প্রক্রিয়া সচল রাখতে তিনি বিগত সরকারের উচ্চপর্যায় ও বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ মহলে যোগাযোগ করলেও বর্তমান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে তা আর এগোয়নি।
আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাণিজ্য সচিব হিসেবে অবসরে যাওয়া সেলিম উদ্দিনকে মিশরে রাষ্ট্রদূত করার প্রস্তাব পাঠিয়েছিল বিগত প্রশাসন। গত বছরের অক্টোবর থেকে কায়রোর ‘সবুজ সংকেতের’ অপেক্ষায় থাকলেও দীর্ঘ সময়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। বর্তমান সরকার এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটিও এখন পুরোপুরি স্থগিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এক লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রস্তাবগুলো এই মুহূর্তে বিবেচনা করার কোনো পরিকল্পনা বর্তমান নির্বাচিত সরকারের নেই। মূলত পেশাদার ও অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
